বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইমরান চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার রাতে রিফাইতপুর ইউনিয়নের বিনতিপাড়া গ্রামে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিরুল ইসলামের পথসভায় ওই হুঁশিয়ারি দেন। সেই বক্তব্যের ৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও মুঠোফোনে ছড়িয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবিদ হাসান। ২৮ নভেম্বর দৌলতপুর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ভিডিওতে ইমরানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা আমাদের প্রার্থীকে (জামিরুল) বিজয়ী করার জন্য কত কী যে করতে পারি, সেটা হয়তো আপনার ধারণা নেই। নৌকা পেয়েছে আমাদের জামিরুল ইসলাম বাবু ভাই। তিনি টোকেন চৌধুরীর (ইমরানের চাচা যুবলীগ নেতা) প্রার্থী, রেজাউল হক চৌধুরীর প্রার্থী, মাহবুব উল আলম হানিফ সাহেবের প্রার্থী। তাঁকে বিজয়ী করার জন্য আমাদের যা যা করার দরকার, তা-ই করব।’

রাতের এ পথসভায় এলাকার কয়েক শ মানুষ দাঁড়িয়ে ও বসে তাঁর কথা শোনেন। এ সময় বক্তব্য শুনে অনেকে হাততালি দেন।

আবিদ হাসানকে হুঁশিয়ার দিয়ে ইমরান চৌধুরী আরও বলেন, ‘আপনি আমাদের শ্রদ্ধাভাজন ভাই, আপনাকে অনুরোধ করব আপনার লোকবল তুলে, সুন্দরভাবে মাইকিং করে অথবা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করুন। এতে আপনারও ভালো, আপনার দলের লোকেরও ভালো।’ তিনি বলেন, ‘যদি কখনো বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসে, আপনি সেই দিন আবার নির্বাচন করবেন। আমরা সেদিন আপনাকে কিছু বলতে যাব না, কিন্তু এখন আমার দল ক্ষমতায়, আপনি কেন এখন নির্বাচন করে শুধু শুধু নিজের ভাইবোনকে রক্তে রাঙাবেন। আপনি যদি আপনার দলের লোককে ভালোবেসে থাকেন, আপনি যদি আপনার গ্রামের লোককে ভালোবেসে থাকেন, আপনি যদি আপনার দলীয় কর্মীকে ভালোবেসে থাকেন, তাহলে আপনি দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এই নির্বাচন বর্জন করে ঘরে উঠে বসে থাকুন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তা না হলে ভাই এই রক্তের খেলা কিন্তু বন্ধ হবে না। এই রক্তের দায়ভার কিন্তু আপনাকে নিতে হবে। আগামী ২৮ তারিখে কিন্তু আপনি ভোট সেন্টারে যেতেও পারবেন না, ভোটটাও দিতে পারবেন না। শুধু শুধু আপনি আপনার ক্ষতি করছেন। আপনার কর্মীদের ক্ষতি করছেন।’

এ সভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জামিরুল ইসলামসহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ইমরান চৌধুরী বলেন, ‘একটা বক্তব্য দিয়েছিলাম। যা হওয়ার হয়েছে। এখন আপনি যেটা মনে করেন।’ প্রার্থী আবিদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বক্তব্যটি শুনেছি। আমি কোনো ভয় পাচ্ছি না। তবে ভোট নিয়ে শঙ্কায় আছি।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁরা মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। কোনো সমস্যা হলে জানাতে বলেছেন। সেই মোতাবেক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন