বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বদরুল ইসলামের (৪০) বাড়ি উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মামনপুর গ্রামে। সুরমা ইউপিতে ১১ নভেম্বর ভোট গ্রহণ করা হয়। এখানে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল হালিম বীর প্রতীক। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক (বহিষ্কৃত) সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

তবে হারুনুর রশিদ হুমকির বিষয়টিকে ভুল–বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তিনি রড–সিমেন্টের ব্যবসা করেন। বদরুল তাঁর এলাকার ছোট ভাই। বদরুলের কাছে কিছু টাকা পেতেন। মুঠোফোনে এই টাকা চাইতে গিয়ে ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিটমাটের চেষ্টা করছেন। হারুনুর রশিদের বাড়ি ইউনিয়নের খাগুড়া গ্রামে।

বদরুল ইসলাম বলেন, হারুনুর রশিদ এবং তাঁরা পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দা। এবার নির্বাচনী আলোচনা শুরুর পরই হারুনুর রশিদ ডেকে নিয়ে নিজের পক্ষে কাজ করতে বলেন তাঁকে। তখন বদরুল জানান, যদি দল থেকে প্রতীক দেওয়া হয় তাহলে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে তিনি নৌকার পক্ষেই কাজ করবেন। এরপর নির্বাচনে তিনি নৌকার পক্ষে কাজ করেন। এ কারণে হারুনুর রশিদ তাঁর এবং পার্শ্ববর্তী মিরপুর গ্রামের রফিক মিয়া ও জুয়েল মিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। নির্বাচনে হারুন পরাজিত হন।

বদরুল ইসলাম আরও বলেন, শুক্রবার সকালে হারুনুর ফোন করেন তাঁকে। নৌকার পক্ষে তিনি জনৈক মশিউর রহমানের কাছে ভোট চেয়েছেন উল্লেখ করে তাঁকে (বদরুল) টাকাপয়সা দিতে বলেন হারুনুর। একপর্যায়ে নৌকায় ভোট চাওয়ায় ‘বড় কলিজা’ আছে উল্লেখ করে হারুনুর তাঁদের বেঁধে ২৫ লাখ টাকা আদায় করবেন বলে জানান। তিনি নিজেকে ‘ভয়ংকর’ উল্লেখ করে টাকা না পেলে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত শুষে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপর রাতে তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেন।

বদরুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁর (হারুনুর) নাকি নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন সেই টাকা আমাদের দিতে হবে। তিনি যেভাবে হুমকি দিয়েছেন তাতে আমরা ভয়ে আছি। এ কারণে থানায় জিডি করেছি।’

সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম বীর প্রতীক জানিয়েছেন, নৌকার পক্ষে কাজ করায় আওয়ামী লীগের কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন পরাজিত প্রার্থী হারুনুর রশিদ। জিডি করার পর তিনিও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি তিনি স্থানীয় সাংসদকেও অবহিত করেছেন বলে জানান।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেব দুলাল ধর শনিবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে করা জিডির বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন