বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল পাঁচটায় ভারতেশ্বরী হোমসের মাঠে। এ সময় ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীরা শারীরিক কসরত প্রদর্শন করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা ছাড়াও তুলে ধরা হয় বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নৃত্য।

১৯৩৮ সালে শোভাসুন্দরী ডিসপেনসারি ও ভারতেশ্বরী বিদ্যাপীঠ দিয়ে রণদা প্রসাদ সাহা তাঁর জনহিতকর কাজ শুরু করেন। তখন পুরোটাই তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি ছিল। ১৯৪৭ সালে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। পুরো সম্পত্তি ট্রাস্টে দান করে দেন।

পরে কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা। তিনি বলেন, ‘দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ৯০ বছর আগে কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যা উপমহাদেশে নানা ভালো পরিবর্তনে সহযোগিতা করেছে। ১৯৭১ সালে তাঁকে ও আমার বাবা ভবানী প্রসাদ সাহাকে পাকিস্তানি হানাদারেরা ধরে নিয়ে যায়। ওই সময় তাঁদের সঙ্গে এই এলাকার অন্তত ৬০ জন মানুষকে আমরা হারিয়েছি। রণদার মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া স্থাপনা হারায়নি। আজও সগৌরবে দাঁড়িয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।’

এরপর পুরো চত্বরে থাকা বিদ্যুতের আলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ভারতেশ্বরী হোমসের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক কবি ও সাহিত্যিক হেনা সুলতানার সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীরা ‘ও আলোর পথের যাত্রী’, ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’সহ কয়েকটি গানের সঙ্গে মোমবাতি প্রজ্বালন করে রণদার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ সময় অতিথিরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

default-image

অনুষ্ঠানের অতিথি সুলতানা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘রণদা বিষয়ে সবচেয়ে বড় কথা তাঁর জীবন দর্শন। তিনি দানকে তাঁর দায় বলে গেছেন। তিনি দায় হিসেবে সমাজের সেবা করে গেছেন। যা আমাদের সবার জন্য বিরাট বড় শিক্ষা। এই দায় থেকেই আমাদের ভালো কিছু অর্জন করতে হবে।’

মাহ্‌ফুজ আনাম বলেন, ‘রণদা প্রসাদ সাহা আমাদের সমাজ ও দেশকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন। তিনি নারী অধিকার, শিশুদের শিক্ষার অধিকারের জন্য যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। যেখান থেকে আমরা নিজেরা অনুপ্রাণিত হয়ে যে যেটুকু পারি, সেটুকুই সমাজের জন্য উপহার দিয়ে ভালো কিছু করতে পারি।’

১৮৯৬ সালের ১৫ নভেম্বর দেবেন্দ্রনাথ পোদ্দার ও কুমুদিনী দেবীর দ্বিতীয় পুত্র রণদা সাভারের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। বেড়ে ওঠেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। ১৯৩৮ সালে শোভাসুন্দরী ডিসপেনসারি ও ভারতেশ্বরী বিদ্যাপীঠ দিয়ে তাঁর জনহিতকর কাজ শুরু করেন। তখন পুরোটাই তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি ছিল। ১৯৪৭ সালে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। পুরো সম্পত্তি ট্রাস্টে দান করে দেন। পঞ্চাশের দুর্ভিক্ষের (১৯৪৩) সময় তিনি সারা দেশে প্রায় ৩০০টির মতো লঙ্গরখানা খুলে কয়েক মাস নিজ অর্থে বুভুক্ষু মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। এ জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘রায় বাহাদুর’ খেতাব প্রদান করে।

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে ১৯৭১ সালের ৭ মে নারায়ণগঞ্জের কুমুদিনী কমপ্লেক্স থেকে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা ধরে নিয়ে যায়। আর ফিরে আসেননি তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন