রত্না দেবী জানান, হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হয়ে তাঁর স্বামী যখন মারা যান, তখন বড় মেয়ে সুপ্রভা দেবনাথ উচ্চমাধ্যমিক ও দ্বিতীয় মেয়ে সুপ্রিয়া দেবনাথ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী ছিলেন। তৃতীয় মেয়ে সামান্তা দেবনাথ পড়তেন সপ্তম শ্রেণিতে। তাঁর স্বামীর স্বপ্ন ছিল, লেখাপড়া শেষে মেয়েরা চাকরিবাকরি করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবেন। স্বামীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে রত্না দেবী তাই সংসারের নানা খরচ বাঁচিয়ে মেয়েদের পড়ালেখাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

রত্না জানান, তাঁর তিন মেয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। বড় মেয়ে পূবালী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। দ্বিতীয় মেয়ে ভেটেরিনারি চিকিৎসক। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। স্বামী-সংসার নিয়ে তাঁরা সুখেই আছেন। সবার ছোট মেয়ে এনআরবি ব্যাংকে জুনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন।

স্বামী মারা যাওয়ার পর কীভাবে মেয়েদের মানুষ করেছেন, জানতে চাইলে রত্না দেবী বলেন, ‘তাঁর (স্বামী) স্বপ্ন ছিল মেয়েরা সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরে ভালো লাগছে। অনেক কষ্ট করে মেয়েদের মানুষ করেছি। এই তিন মেয়েই আমার তিন রত্ন। তাঁদের সাফল্যে আমি খুশি। কিন্তু কষ্ট হয়, মেয়েদের বাবা সেটি দেখে যেতে পারলেন না।’

রত্না দেবীকে নিয়ে তাঁর মেয়েরা খুবই গর্বিত। ছোট মেয়ে সামান্তা দেবনাথ বলেন, ‘আমার মা কখনোই বাবার অভাব বুঝতে দেননি। আমাদের মা আমাদের বন্ধুর মতো। যেকোনো বিষয় মায়ের সঙ্গে খোলা মনে আমরা শেয়ার করি। মা আমাদের পড়াশোনার বিষয়েও নিয়মিত তদারক করেছেন।’

সামান্তা আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠার জন্য মা যে কী পরিমাণ সংগ্রাম করেছেন, সেটা বলে বোঝানো যাবে না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন