কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আজ আমি ভোলার খেতে পায়ে হেঁটে দেখেছি। ভোলায় সব ফসল উৎপাদন হয়। বাংলাদেশে এত সয়াবিন হতে পারে, ভোলায় না এলে জানতে পারতাম না। ভোলায় এসে সয়াবিন, পেঁয়াজ, আদা, লিচু, বিশ্বের নামকরা আমের বিভিন্ন জাতের ফলন দেখেছি। যে আমের কেজি এক হাজার টাকা, সেই আম ধরছে বিপ্লবের ঘেরে। সেখানে ১ বিঘা জমিতে ৬০-৭০ মণ পেঁয়াজ হচ্ছে। ১ বিঘা জমিতে ১৫০ মণ আলু হচ্ছে, আমি না দেখলে বিশ্বাস করতাম না।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভোলার কৃষকের সমস্যা শুনতে এসেছিলেন, যাঁরা যুগে যুগে শোষিত, বঞ্চিত। কৃষক চান, তাঁর শিশুর মুখে একটু দুধ, একটি ডিম তুলে দিতে। সেই চাওয়া বাস্তবে রূপ দিতে কৃষিকে লাভজনক করতে চান। কীভাবে ভোলার কৃষিকে আরও আধুনিক করা যায়, আরও বেশি এলাকায় সয়াবিন করা যায়, সূর্যমুখী আবাদ করা যায়, সেই চেষ্টা করবেন তিনি।

কৃষকদের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বছর সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। পৃথিবীর কোনো দেশ এত টাকা ভর্তুকি দিতে পারবে না। শুধু জননেত্রী শেখ হাসিনাই এটা পারেন। ভোলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ৮-১০ বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ভোলায় ইলিশ মাছ আছে, সুন্দর পানি আছে, কীভাবে ভোলার কৃষিকে আরও উন্নত করা যায়, ভোলার আম, ভোলার লিচু, ভোলার সয়াবিন তেল পৃথিবীর অন্য দেশে রপ্তানি করা যায়, সেই চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আগামী চার মাসের মধ্যে আমরা ভোলায় একটি হর্টিকালচার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করব। এখান থেকে বিভিন্ন ফলের, বিভিন্ন সবজির উন্নত জাত পেতে পারি, সে প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের।’

মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজির আলম, ভোলা জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক ই-লাহী চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মমিন, সবুজ বাংলা কৃষি খামারের পরিচালক ইয়ানুর রহমান প্রমুখ।