বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে বাংলা নববর্ষের দিন সিটি চিকলি পার্কটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ। শুরু থেকেই পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। চিকলি বিলের চারপাশ সংরক্ষণ করে প্রায় ৯২ একর জায়গা বিনোদন পার্ক হিসেবে সাজানো হয়। প্রায় সোয়া কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের লেকের চারপাশে সবুজ বৃক্ষের সমারোহঘেরা পার্কে আকর্ষণীয় সব রাইড স্থাপন করা হয়। গাছের ছায়ায় নিরিবিলি পরিবেশে মানুষজন বিনোদন পেতে ছুটে যেত সেখানে।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বিলের দুই পাশে গড়ে তোলা বসার আসনগুলো ভেঙে গেছে। শিশুদের জন্য নাগরদোলা, ঘূর্ণি দোলনা, সাঁজোয়া যান, গাড়ি, মেরিগোল্ড বিকল হয়ে পড়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একটি স্পিডবোট ছাড়া সব রাইড বিকল। পার্কে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা রেললাইনের আশপাশে ঘাস গজিয়েছে। ভেতরের খুদে দোকানিরাও ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।

রংপুর নগরের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অভাবে সিটি চিকলি পার্কের আকর্ষণ এখন আর নেই। প্রথম দিকে পার্কে চিত্তবিনোদনপিপাসু মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। তখন পরিবেশও ভালো ছিল। এখন রাইডগুলো সব নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কারকাজ না হওয়ায় বসার জায়গাগুলোও নষ্ট।

গতকাল বুধবার সকালে দুই সন্তান নিয়ে পার্কটিতে এসেছিলেন নগরের ইসলামবাগ এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম। তাঁরা মূলত লেকের আশপাশে ঘুরছিলেন। শফিকুল ইসলাম বলেন, শহরের ভেতর মনোরম পরিবেশে একটি লেক। অথচ এখানে ঘুরে শান্তি পাওয়া যায় না। শিশুরাও পার্কে এসে আনন্দ করতে পারে না। নগরবাসীর বিনোদনের কথা ভেবে দ্রুত পার্কটি সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তাঁর।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ছয় মাস আগে ৫০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নেও কিছু কাজ করা হবে। চিকলি লেকের চারপাশের পরিবেশ আরও সুন্দর করে সাজানো হবে। এ ছাড়া দুটি সুইমিংপুল নির্মাণ করা হবে। তখন পার্কটি আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন