default-image

পৌরসভা গঠনের জন্য কোনা এলাকার জনসংখ্যা হতে হবে ৫০ হাজার। অকৃষি জমি থাকতে হবে ৩৩ ভাগ। এসব গুরুত্বপূর্ণ কোনো শর্তই পূরণ না করেই গঠন করা হয়েছে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভা। এতে রাজস্ব আয় কম হওয়ায় ৪০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ১২ জন খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ২৪ মাস ধরে বেতন–ভাতা পাচ্ছেন না। পৌরসভার বাসিন্দারাও পাচ্ছেন না নাগরিক সেবা।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের ২২ আগস্ট নাঙ্গলকোট পৌরসভা গঠন করা হয়। এর আয়তন ১৩ দশমিক ৫১ বর্গকিলোমিটার। কোনো ধরনের শর্ত পূরণ না করেই রাজনৈতিক বিবেচনায় নাঙ্গলকোট সদরের ১৯টি গ্রাম নিয়ে এই পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয়। ২০১৮ সালের ১৭ এপ্রিল এই পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। পৌরসভার নিজস্ব আয় কম হওয়ার কারণে এখানকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন–ভাতা সময়মতো দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে তাঁদের দুই বছরের বেতন–ভাতা বকেয়া রয়েছে। ফলে তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে আগামী ১১ এপ্রিল এ পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে।

কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বলছেন, এই পৌরসভার অর্ধেকের বেশি জমি কৃষি। গত ১৮ বছরেও এই পৌরসভায় জনসংখ্যা ৫০ হাজারও হয়নি। ফলে এই পৌরসভার আয় কম। রাজস্ব আয়, বাজারের কর ও ট্রেড লাইন্সেস থেকে আয় করে বেতন–ভাতা দিতে হয়। কিন্তু এসব খাত থেকে কোনো আয় নেই। ফলে তাঁরা সুযোগ–সুবিধা পাচ্ছেন না। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় সরকার পাঁচ লাখ টাকা প্রণোদনা দিয়েছিল। ওই টাকা আনুপাতিক হারে কর্মীদের ভাগ করে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

পৌরসভা সূত্র জানায়, এ পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক বেতন ১৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। কিন্তু বাত্সরিক আয় এক কোটি টাকার মতো। ফলে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন–ভাতা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ নিয়ে পৌরসভার কর্মীরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন দেওয়ার দাবি জানিয়ে আন্দোলনও করেছিলেন। কিন্তু কোনো দাবি পূরণ হয়নি।

নাঙ্গলকোট পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘পৌরসভার বেতাগাঁও এলাকার ৩৯ শতক জায়গা নিয়ে পৌরভবন। রাজস্ব আয় কম হওয়ার কারণে বেতন পাচ্ছি না। বহুবার এখান থেকে বদলির চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু বদলি হতে পারিনি।’

নাঙ্গলকোট নতুন পৌরসভা। জনসংখ্যাও ২৯ হাজার ৩০১ জন। তাই রাজস্ব আয় কম। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু সড়ক ছাড়া পুরো পৌরসভার সড়ক ভালো। সুবিধা পেলে মানুষ ধীরে ধীরে এখানে বসতি স্থাপন করবে। তখন আয় বাড়বে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা
আবদুল মালেক, মেয়র, নাঙ্গলকোট পৌরসভা, কুমিল্লা

পৌর মেয়র মো. আবদুল মালেক বলেন, ‘নাঙ্গলকোট নতুন পৌরসভা। জনসংখ্যাও ২৯ হাজার ৩০১ জন। তাই রাজস্ব আয় কম। অর্থমন্ত্রী মহোদয় এই এলাকার সাংসদ। নাগরিক সুবিধা বাড়াতে সড়ক ও নালা হচ্ছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু সড়ক ছাড়া পুরো পৌরসভার সড়ক ভালো। সুবিধা পেলে  মানুষ ধীরে ধীরে এখানে বসতি স্থাপন করবে। তখন আয় বাড়বে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।’

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম বলেন, নাঙ্গলকোট পৌরসভা একটি গ্রামীণ জনপদে গড়ে উঠেছে। এখানে পৌরসভা হতে হলে অন্তত ৫০ হাজার লোক লাগত। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও জনসংখ্যা মাত্র ২৯ হাজার ৩০১। শিক্ষিতের হার ৫৭ শতাংশ। ব্যবসা–বাণিজ্যও সেভাবে বাড়েনি। কৃষি এলাকায় এই পৌরসভা হয়েছে। ফলে নাগরিক সুবিধা কম। ওই এলাকার বেশির ভাগ বাসিন্দা পাশের লাকসাম পৌর এলাকায় বসতি স্থাপন করছে। সুশাসন ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে এমনটা হচ্ছে। তবে এখানকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন নিয়মিত দেওয়া হোক। নিয়মিত বেতন ভাতাদি না পেলে সরকারি কাজের বরাদ্দ থেকে ওরা বেতন–ভাতা নেওয়ার চেষ্টা করবে। তখন অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন