বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, ধর্মসাগর দিঘিতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রচলন শত শত বছর আগ থেকেই। বড়শি দিয়ে মাছ ধরা কুমিল্লার ঐতিহ্যেরই অংশ। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজপরিবারের সদস্য মহারাজ ধর্মমাণিক্যের নামে ধর্মসাগর। তিনি এই দিঘি খনন করেন।

সরেজমিনে শনিবার সকালে গিয়ে দেখা গেছে, ধর্মসাগর দিঘির চার পাড় ঘুরে ৬৫টি মাচায় বসে আছেন কয়েক শ মত্স্যশিকারি। প্রতি মাচায় ৫ জন বসে বড়শি ফেলছেন। ১৭ হাজার ৫০০ টাকা টিকিট দিয়ে অংশ নেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাজশাহী, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার শৌখিন মত্স্যশিকারিরা। এর বাইরে আরও ১০টি ভিআইপি মাচা আছে। এসব মাচার ব্যক্তিদের বিনা মূল্যের টিকিট দেওয়া হয়।

এবার দিঘির দক্ষিণ পাড়ের বাইরে কুমিল্লা জিলা স্কুল ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের পাশেও মাচা পাতা হয়। এই দিঘিতে সর্বোচ্চ ৫ কেজি থেকে সর্বনিম্ন ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত রুই, কাতলা, মৃগেল, ব্ল্যাককার্প, কালবাউশ, কার্প, গ্রাসকার্প, তেলাপিয়া ও বিগহেড মাছ আছে। প্রতিটি মাচায় ধরা পড়েছে নানা প্রজাতির মাছ। ধর্মসাগর দিঘিতে এবার বড় কোনো মাছ ধরা পড়েনি। গত বছরের ২৪ আগস্ট ধরা পড়েছিল ২০ কেজি ওজনের ব্ল্যাককার্প।

নাঈম হাসান নামের এক মত্স্যশিকারি বলেন, এবার মাছ কম ধরা পড়ছে। আকারে ছোট। বদরুল হোসেন নামের এক মত্স্যশিকারি বলেন, এবার টিকিটের টাকা উঠবে না। তবে আনন্দ লাগছে।

১৪৫৮ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মহারাজ ধর্মমাণিক্য কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড়, বাদুরতলা, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম ও নগর উদ্যানের মধ্যবর্তী স্থানে ২৩ দশমিক ১৮ একর জায়গা নিয়ে নগরবাসীর পানির সংকট মেটাতে দিঘি খনন করেন। রাজা ধর্মমাণিক্যের নামানুসারে এই দিঘির নাম রাখা হয় ধর্মসাগর দিঘি। বর্তমানে ধনঞ্জয় মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি এক বছরের জন্য দিঘির ইজারা নিয়েছে। তাদের ব্যবস্থাপনায় শনিবার মাছ শিকারের উৎসব হয়।

করোনাকালে মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার জন্য এই মত্স্য প্রতিযোগিতা। আমরা সবাইকে মাস্ক পরে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে মাছ শিকারের জন্য লিফলেট ও টিকিটের মধ্যে উল্লেখ করেছি।
মীর মো. কামরুজ্জামান, সদস্য, ধনঞ্জয় মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি

সমিতির সদস্য মীর মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘করোনাকালে মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার জন্য এই মত্স্য প্রতিযোগিতা। আমরা সবাইকে মাস্ক পরে ও সামাজিক দূরত্ব মেনে মাছ শিকারের জন্য লিফলেট ও টিকিটের মধ্যে উল্লেখ করেছি।’
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, রাজপরিবারের দিঘিতে মত্স্য প্রতিযোগিতা বহুকাল থেকে হয়ে আসছে। এটা কুমিল্লার ঐতিহ্য।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন