default-image

রাজবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ মেয়র প্রার্থী আলমগীর শেখ তিতুকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

আলমগীর শেখ তিতু ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তিনি বর্তমানে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলমগীর শেখ তিতু রাজবাড়ী পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন চেয়ে তৃণমূলের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তী সময়ে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহম্মদ আলী চৌধুরীকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন। ওই মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করে আলমগীর শেখ তিতু নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ‘বিদ্রোহী’ মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচারাভিযান চালাচ্ছেন। বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগসহ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় তাঁকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

আলমগীর শেখ তিতু দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রলীগ করতেন। তাঁর নাম আমরা ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু দল থেকে নমিনেশন পাননি। এরপর নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। নৌকার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাবোধ থাকলে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারতেন না।
কাজী ইরাদত আলী, সাধারণ সম্পাদক, রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ
বিজ্ঞাপন

নির্বাচনে মেয়র পদে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মহম্মদ আলী চৌধুরী (নৌকা প্রতীক), বিএনপি মনোনীত সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া (ধানের শীষ প্রতীক), জাতীয় পার্টির মনোনীত পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক কে এ রাজ্জাক মেরিন (লাঙ্গল প্রতীক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর শেখ তিতু (নারকেলগাছ প্রতীক)।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী বলেন, ‘আলমগীর শেখ তিতু দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রলীগ করতেন। আওয়ামী লীগ থেকে নমিনেশন চেয়েছিলেন। তাঁর নাম আমরা ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু দল থেকে নমিনেশন পাননি। এরপর নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। নৌকার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাবোধ থাকলে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারতেন না। এ কারণে তাঁকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

চতুর্থ ধাপে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ১৭ জানুয়ারি। এই পৌরসভার মোট ভোটার ৪৫ হাজার ২০ জন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন