default-image

রাজবাড়ীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য দুটি আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আইনজীবীরা। আদালত দুটি হলো জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত। আইনজীবীদের ওপর হামলার অভিযোগে গতকাল সোমবার দুপুরে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ওই দুই আদালতের বিচারকদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, জেলা জজের উদ্যোগে রাজবাড়ী জেলা বার এসোসিয়েশনের দ্বিতীয় ভবনের পাশে দোতলা মার্কেট তৈরির কাজ শুরু হয়। ওই জমির মালিকানা দাবি করে আইনজীবী সমিতির পক্ষে ২৫ মার্চ যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতের বিচারক পারভেজ শাহরিয়ারের আদালতে মামলা করা হয়। মামলায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা জজ, কোর্ট মসজিদের সভাপতি, জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) বিবাদী করা হয়। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত মামলাটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা হয়নি। মামলাটির নম্বর বা তারিখ দেওয়া হয়নি। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইনজীবীরা যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত চলাকালে আদালতে উপস্থিত হন। এ সময় তাঁরা বিচারকের কাছে মামলাটির ভবিষ্যৎ জানতে চান। বিচারক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার পর আইনজীবীরা ওই আদালত বর্জন করে আদালত চত্বরে মিছিল বের করেন। মিছিল নিয়ে নির্মাণাধীন মার্কেটের সামনে গিয়ে তাঁরা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। এ সময় জেলা জজ আদালতের কর্মচারীদের সঙ্গে আইনজীবীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আদালতের কর্মচারীরা ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। তাঁরা আইনজীবীদের লক্ষ্য করে বালতি, সিমেন্টের ব্যাগ ও বাঁশ ছুড়ে মারেন। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বেলা দুইটায় আইনজীবীরা জরুরি সভা করেন। সভায় তাঁরা দুই বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।

বিষয়টি জানতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস কে এম শওকত আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি কল ধরেননি।

রাজবাড়ী জেলা বার এসোসিয়েশনের সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী স্বপন কুমার সোম বলেন, ১৮৮২ সালে বার স্থাপিত হয়। ১৯০৭ সালে বারের নামে ওই জমি রেকর্ড হয়। তবে জমির মালিকানা দাবি করে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ব্যবহার করে আইনজীবীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, ‘মৌখিকভাবে উভয় পক্ষের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। আমি বাইরে আছি। এজাহার পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন