বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলার পর আজ রোববার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি বানিবহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের ছেলে মোর্শেদ আছেন।

এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আবদুল লতিফের জনপ্রিয়তার কারণে মাঝেমধ্যেই হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। তিনি নিরাপত্তার জন্য মোহাম্মদ আলীর জামাতা মেহেদী হাসানসহ কিছু ব্যক্তির সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতেন। ১১ নভেম্বর তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বানিবহ বাজার থেকে মোটরসাইকেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তিনি রওনা দেওয়ার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। তিনি মেহেদী হাসানকে নামিয়ে দেওয়ার পরেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় সামনে থেকে তাঁকে দুটি গুলি করা হয়। তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে এগোতে থাকলে পিছন থেকে আরও তিনটি গুলি করা হয়। এতে করে আবদুল লতিফ মাটিতে পড়ে গিয়ে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ও রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পথে তিনি হামলাকারীদের নাম বলেছেন, যা মুঠোফোনে রেকর্ড করা আছে। ভোর চারটার দিকে মানিকগঞ্জের মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যা মামলায় মোর্শেদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মোর্শেদের বাবা হাবিবুর রহমান বানিবহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতা ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হওয়ার পর মোর্শেদের ভাই খোরশেদ আলম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। খোরশেদ বিগত ইউপি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ গোলাম মোস্তফা বাচ্চুর কাছে পরাজিত হন।

এ বিষয়ে খোরশেদ আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

নিহত আবদুল লতিফের স্ত্রী শেফালী আক্তার বলেন, তাঁর স্বামী এলাকায় খুব জনপ্রিয় ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে জয়ের সম্ভাবনা ছিল। এ কারণে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার অংশ হিসেবে ওই সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এ সময় সাধারণত বিদ্যুৎ যায় না। আবার হত্যাকাণ্ডের স্থানে আশপাশের কয়েকটি বাড়ির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে রাখা ছিল। তিনি স্বামী হত্যার বিচার চান।

আওয়ামী লীগের নেতা ও বানিবহ ইউপির চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তাফা বলেন, এবার আবদুল লতিফ দলীয়ভাবে চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশী ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। ইউনিয়ন থেকে পাঠানো তালিকায় তাঁর নাম ১ নম্বরে ছিল। নির্বাচন সামনে রেখে লতিফ ব্যাপক আকারে গণসংযোগ করছিলেন। প্রতিপক্ষরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ থাকা পাঁচজনকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক পুলিশ দল মাঠে তৎপর আছে। কাল তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন