বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সুলতানা ইসলাম নামের এক পোশাকশ্রমিক বলেন, আগামীকাল ঢাকায় তাঁর চাকরিতে যোগদান করতে হবে। তাই কড়া রোদ উপেক্ষা করে বাচ্চা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বের হয়েছেন। সঙ্গে বড় ব্যাগ ও বাচ্চা থাকায় তিনি সরাসরি ফেরি পারাপার হয় এমন বাসের টিকিট কেটেছেন। তবে সব বাসের টিকিট ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ সময়ে এই বাসগুলো ৩০০ টাকা করে নিত বলে জানান তিনি।

কামরুল ইসলাম বলেন, ‘লোকাল বাসে অনেক ভিড়। এ কারণে মাহিন্দ্রাতে যাচ্ছি। তবে ভাড়া বেশি হয়ে গেছে। অন্য সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। এ বিষয় প্রশাসনের দেখা উচিত। ঢাকা থেকে আসার সময়ও ভাড়া বেশি দিতে হয়েছে।’

এ ছাড়া লোকাল বাসেও ভাড়া বেশি নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এক লোকাল বাসের চালকের সহকারী নয়ন বলেন, আগে ভাড়া ছিল ৪৫ টাকা। তবে ঈদ উপলক্ষে ৭০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

মাহিন্দ্রার ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে জানতে চাইলে মাহিন্দ্রাচালক নাজির ইসলাম বলেন, সাধারণ সময়ে রাজবাড়ীর বড়পুল বা নতুন বাজার এলাকা থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু এখন অনেক ঘুরে ঘাটে যেতে হচ্ছে। এ কারণে সময় বেশি লাগছে। তাই যাত্রীপ্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী অনেক থাকলেও রাস্তা ঘুরে যাওয়ার কারণে ট্রিপ কমে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাবেয়া পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা ভবেশ বলেন, এসি বাসে সাধারণ সময় ভাড়া ৫৫০ টাকা। আর ঈদ উপলক্ষে নেওয়া হচ্ছে ১০০০ হাজার টাকা। ১২ মে পর্যন্ত এই ভাড়া চলবে। অন্যদিকে ফেরি পারাপার বাসগুলোর ভাড়া ছিল ৩০০ টাকা। এখন ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যার কাছ থেকে যেমন পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হাসান বলেন, সরাসরি ফেরি পারাপারের পরিবহনগুলো সাধারণত রাজবাড়ীর বিভিন্ন অঞ্চল ও কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসে। কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসায় রাজবাড়ী থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের কুমারখালীর ভাড়া দিতে হচ্ছে। তবে লোকাল বাসে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। আর রাজবাড়ী থেকে প্রতিদিন চারটি বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। এসব বাসে ৩০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে কোন চারটি বাস কখন চলাচল করছে, সেটি তিনি সঠিকভাবে বলতে পারেননি।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি তদারক করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট দৌলতদিয়া ঘাটে অবস্থান করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন