default-image

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর পানি কয়েক দিন ধরে বেড়েই চলছে। দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে বন্যার পানি বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রবেশ করেছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বন্যা এসব গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই বাড়িয়ে তুলেছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সেনগ্রাম গেজ, সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গেজ ও গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া গেজ—এ তিনটি পয়েন্টে পানি পরিমাপ করা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়ায় বিপৎসীমার ৮৩ ও সেনগ্রাম পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। দৌলতদিয়ার গত দিনের তুলনায় পানি বেড়েছে ২৫ ও সেনগ্রামে ২৭ সেন্টিমিটার। সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলে গত দিনের তুলনায় পানি বেড়েছে ২৫ সেন্টিমিটার।
স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের নয়নসুখ, কাশিমনগর, কাঁচরন্দ, গোপালবাড়ি, উড়াকান্দা, ভবদিয়া (আংশিক), মিজানপুরের মহাদেবপুর, বড়লক্ষ্মীপুর (আংশিক) এলাকায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের আলোকদিয়া, চররাজপুর (আংশিক), লস্করদিয়া-নারায়ণপুর, কাশিনাথপুর এবং কালিকাপুর ইউনিয়নের নারায়নদিয়া, গতমপুর গ্রামেও পানি ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চররামনগর, চরখাপুর, পূর্ব চরআফড়া, চর আফড়া, চরশাহমিরপুর, শাহমিরপুর ও নতুনচরপাড়া এলাকায় পানি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের বড়লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা সালন বেগম বলেন, দুই-তিন দিন ধরে বাড়িতে পানি উঠেছে। বাড়ির উঠান এখন পানির নিচে। রান্না ঘরেও পানি।
একই গ্রামের সোহেল মুন্সী বলেন, ‘বাড়ির চারপাশে পানি। শুধুমাত্র বাড়ির জমি উঁচু হওয়ায় শুকনা আছে। তবে যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে বোধহয় বাড়িতেও পানি উঠবে। বাড়িতে ছোট ছোট শিশুবাচ্চা রয়েছে। চারপাশে পানি থাকায় খুব ভয়ে আছি। কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে।’
বরাট ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মনিরুজ্জামান সালাম বলেন, ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী। আজ বৃহস্পতিবার পাঁচ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছেন। ৫০০ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।

default-image

কালিকাপুর ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘পানি বেড়েই চলেছে। এলাকার মানুষ খুব কষ্টে আছে। সাহায্যের জন্য সব স্থানে বলেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাহায্য পাইনি। চরের বিস্তৃত এলাকার বিভিন্ন ধরনের ফসল তলিয়ে গেছে। মানুষের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, পানি আরও কয়েক দিন টানা বাড়বে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মিজানপুর স্লুইচগেট রাতে খুলে দেওয়ায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এখন থেকে স্লুইচগেট বন্ধ রাখা হবে। তবে আপাতত কোথায়ও ভাঙন নেই। ভাঙন শুরু হবে পানি নেমে যাওয়ার পরে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন