নিহত পূরবী ইসলামের ভাই মেহেদী হাসান বলেন, ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে তাঁর এক সহকর্মীর পরকীয়া সম্পর্ক আছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সবাই জানেন। এ জন্য তাঁর বোনের সঙ্গে ফরহাদের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। তাঁর বোনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। প্রায়ই বোনের গায়ে হাত তুলতেন ফরহাদ। তাঁর ধারণা, পরিকল্পিতভাবে তাঁর বোনকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাঁকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার পরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মেহেদী হাসানের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের মামলা করতে নিষেধ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।

ওই দম্পতির মেয়ে মাইশা হোসেন বলেন, ঘটনার সময় তিনি ফরিদপুরে ছিলেন। তবে তাঁর ধারণা, তাঁর বাবা তাঁর মাকে হত্যা করেননি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ শাহাদাত হোসেন বলেন, গতকাল দিবাগত রাত ১২টায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ মাটিতে নামানো ছিল। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ফরহাদ হোসেনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ওসি শাহাদত হোসেন আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া হত্যা না আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে নিহতের স্বজনেরা নির্যাতন করে হত্যা করার অভিযোগ করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন