বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজশাহীর নগরের ঐতিহ্যবাহী মুদিদোকান এক নম্বর গদিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আগের দাম অর্থাৎ ১৬৮ টাকা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখা রয়েছে—বসুন্ধরা কোম্পানির এমন বোতলজাত সয়াবিন ১৯৮ টাকা লিটার হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। দোকানের কর্মচারী রহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের দোকান শহরের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। তাঁদের নিয়মিত বহু ক্রেতা আছেন। তাঁরা এসে বলছেন, বাড়িতে এক ফোঁটা তেল নেই। যেভাবেই হোক ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তাই নিজের দোকানে না থাকলেও তাদের জন্য বোতলজাত সয়াবিন তেলের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। এই তেল কোথায় পাওয়া গেল জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু কিছু দোকানির কাছে আগের কেনা তেল ছিল। তাঁদের কাছ থেকে তিনি ৩০ থেকে ৩৫ লিটার তেল এনেছেন। এটা বিশেষ ব্যবস্থায় করতে হয়েছে।

কোন দোকান থেকে এই তেল কিনেছেন, তা জানতে চাইলে দোকানের কর্মচারী রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যেই দোকান থাইক্যা কিনছি, সেই দোকানি তো আর স্বীকার করব না।’ কী দামে কিনেছেন, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৮৫ টাকা লিটার হিসেবে কিনেছেন। বিক্রি করছেন ১৯৮ টাকা লিটার হিসেবে। বোতলের গায়ে লেখা আছে ১৬৮ টাকা। বোতলের ছবি তুলতে গেলে তিনি বলেন, মালিক ঢাকায় গেছেন, এ নিয়ে প্রশাসনিক কোনো ঝামেলা হলে তিনি দোকান বন্ধ করে দেবেন।

সকালেই খবর পাওয়া যায়, আরডিএ মার্কেটের পেছনের সারির তিনটি দোকানে আগের দামের সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। পরিচিত এক ব্যক্তি মার্কেটের উত্তরণ ট্রেডার্স থেকে পুরোনো তেলের বোতলের ছবি তুলে পাঠান। এই বোতলের গায়ে লেখা রয়েছে ‘মোস্তাফা ফর্টিফাইড’ সয়াবিন তেল। প্রতি লিটারের মূল্য লেখা আছে ১৬০ টাকা। উৎপাদনের তারিখ লেখা ১৯ এপ্রিল ২০২২। মেয়াদ ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। ছবি পাওয়ার ঘণ্টাখানেক পরে গিয়ে দেখা যায়, ওই দোকানে আর কোনো বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। এই দোকানের একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, নতুন দামের মোস্তফা তেলটা আগামী তিন দিনের মধ্যে তাঁরা পেয়ে যাবেন। তাঁদের কাছে আগের দামের কোনো তেল নেই।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী প্রথম আলোকে বলেন, পুরোনো বোতল কেউ নতুন দামে বিক্রি করতে পারবেন না। কাল রোববার অফিস খুললে এগুলো ধরা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন