মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী আজিজুর রহমানের রাজশাহী নগরের বিনোদপুর চৌদ্দপাই (বিহাস গেট) এলাকায় খান অটো অ্যান্ড ব্যাটারি হাউস নামের একটি দোকান রয়েছে। ২৪ মার্চ বেলা ১১টায় ওই দোকানে গিয়ে এক ব্যক্তি নিজেকে রাজশাহী জেলা পুলিশ লাইনসে কর্মরত এসআই পরিচয় দিয়ে কথা বলেন। তিনি নিজের নাম মো. মোজাহার বলেন। পুলিশ পরিচয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, পুলিশ লাইনসে অনেক পরিত্যক্ত গাড়ির পুরোনো ব্যাটারি রয়েছে। সেগুলো ১২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হবে। এখন ৫০ হাজার টাকা দিয়ে পুলিশ লাইনস থেকে ব্যাটারিগুলো বুঝে নিয়ে অবশিষ্ট টাকা বিকেলে দিলে হবে।

নগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নাটোরের নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ কথা শুনে আজিজুর তাঁর দোকানের মিস্ত্রি আমিনুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকাসহ অটোরিকশাযোগে ওই ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশ লাইনসে পাঠান। এসআই পরিচয়দানকারী ব্যক্তি নগরের সিঅ্যান্ডবির মোড়ে পৌঁছে কৌশলে আমিনুলের কাছ থেকে তাঁর মুঠোফোন নম্বর ও টাকা নিয়ে সেখানে নামিয়ে দেন। সেখানে আমিনুলকে দাঁড় করিয়ে ‘পুলিশ সুপারের কাছ থেকে ভাউচার নিয়ে আসি’ বলে ওই ব্যক্তি সাহেব বাজারের দিকে চলে যান।

কিছুক্ষণ পর ওই প্রতারক ফোন করে আমিনুলকে পুলিশ লাইনসের গেটে যেতে বলেন। আমিনুল পুলিশ লাইনসের গেটে গিয়ে অনেক সময় অপেক্ষা করেন। পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিকে না পেয়ে মুঠোফোনে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। আমিনুল বিষয়টি আজিজুরকে জানান। পরে খোঁজখবর নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁরা মূলত প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। ওই দিনই আজিজুর রাজপাড়া থানায় প্রতারণার মামলা করেন।

রাজপাড়া থানা-পুলিশ জানায়, মামলার পর উপপুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো. সাজিদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে রাজপাড়া থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে অভিযানে নামে। নগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নাটোরের নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুলিশ যে ধরনের ওয়াকিটকি ব্যবহার করে, ঠিক সেই ধরনের অকেজো ওয়াকিটকি ব্যবহার করতেন ওই প্রতারক। একইভাবে আগেও ওই ব্যক্তি প্রতারণা করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীর মামলায় আজ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন