বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নগরের গোবিন্দপুর পূর্ব রায়পাড়া এলাকার মো. মুনসুর রহমান (৪৫), হাসানুজ্জামান হিমেল (৩৮), তৌফিকুল ইসলাম চাঁদ (৪৫), মো. মহাসীন (৫০), মো. সাইরুল (২৬), রজব (৩২), বিপ্লব (৩৫), নগরের গুড়িপাড়া এলাকার মো. মমিন (৩০) ও আরিফুল ইসলাম (২৬)। তাঁদের মধ্যে মমিন ও আরিফুল পলাতক।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—বুলনপুর জিয়ানগর এলাকার লাল মোহাম্মদ ওরফে লালু (৩৮), মাহাবুল হোসেন (৪২), সাত্তার (৪৫), সাজ্জাদ হোসেন (৩৮), বখতিয়ার আলম রানা ওরফে রংলাল (৩৫), হাসান আলী (৩২), মাসুদ (৩৫), রাসেল (৩২), রাজা (৩২), মর্তুজা (৩০), সুমন (৩০), গুড়িপাড়া এলাকার আসাদুল (২২), আখতারুল (২৫), জইদুর রহমান (৪৮), ফরমান আলী (৪০), জয়নাল আবেদিন (২৫), রাজু আহমেদ (২৮), আকবর আলী (৪৫), সম্রাট হোসেন (১৯), টিয়া আলম (৩০), আজাদ হোসেন (৩৫) ও মো. মাসুম (২৬)। তাঁদের মধ্যে আজাদ ও মাসুম পলাতক।

রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য রাজশাহীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিরা রায় ঘোষণার তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবেন।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন নিহত শাহিন আলমের বড় ভাই রজব আলী। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন বিএনপি নেতা মুনসুর রহমান। নির্বাচনে মুনসুর রহমান নির্বাচিত হন। নির্বাচন চলাকালে মুনসুর রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন। এ নিয়ে রজব আলী ও ছাত্রলীগ নেতা শাহিন আলম নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মুনসুর রহমান ঘোষণা দেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার সাধ নির্বাচনের পরই মেটানো হবে।

এর জের ধরে ২০১৩ সালের ২৭ আগস্ট মুনসুর ও তাঁর সমর্থকেরা রজব আলীর মালিকানাধীন রজব অ্যান্ড ব্রাদার্সের গুদামঘর ও ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুর করেন। পরদিন ২৮ আগস্ট গুড়িপাড়া সাকিনের ক্লাব মোড়ে শাহিন আলমকে পেয়ে আসামিরা কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্বজনেরা উদ্ধার করে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ভাই নাহিদ আক্তার বাদী হয়ে ২৯ আগস্ট নগরের রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি পরে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে মামলাটি বিচারের জন্য রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। গত বছরের ১১ নভেম্বর আদালতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুসাব্বিরুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে মামলায় রায়ের তারিখ ১৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছে। রায়ে বাদী পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে আসামি পক্ষ আপিল করবে বলে জানিয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন