default-image

রাজশাহীতে একটি তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার দুপুরে নগরের গণকপাড়ার তুলাপট্টি এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি স্টেশনের সাতটি গাড়ি প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ফায়ার সার্ভিস জানাতে পারেনি।

গণকপাড়া তুলাপট্টির ‘শামীম বেড হাউস’ নামের একটি তুলার দোকানের গুদামে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শামীম বেড হাউস লেপ, তোষক, গদি ও বালিশ তৈরির কাজ করে। দোকানের পাশেই এর গুদাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি ভ্যানে করে তুলার বস্তা আসে। এর কিছুক্ষণ পর বস্তাটি তুলার গুদামে রাখা হয়। ওই গুদামে কাজ করেন নগরের ছোটবনগ্রাম এলাকার লাইলি বেগম (৩০)। তাঁর সঙ্গে ছিল আট বছরের শিশু সাইদ হাসান (লাবীব)। বেলা দেড়টার দিকে লাইলি বেগম বাইরে থেকে হঠাৎ গিয়ে গুদামে আগুন দেখতে পান। তিনি আগুন নেভানোর জন্য বালতির পানি দিতে থাকেন। তাঁর ছেলে আশপাশের মানুষকে বিষয়টি জানান। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো গুদামজুড়ে। গুদামে টিনের চালা তুলার ওপর পড়ে যায়। এতে ভেতরে জ্বলতে থাকে আগুন। স্থানীয় ব্যক্তিদের ধারণা, বাইরে থেকে ভেতরে নেওয়া ওই তুলার বস্তাতেই আগুন ছিল এবং সেখান থেকে আগুন লেগেছে। দোকানের সামনে বস্তা থাকার সময় কেউ জ্বলন্ত সিগারেটের অংশ ফেলে যেতে পারে। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, গণকপাড়া এলাকার ওই গুদামের সামনে শামীম হোসেনের ‘শামীম বেড হাউস’ নামের দোকান রয়েছে। গণকপাড়া এলাকায় তুলাপট্টির ওই এলাকায় বেশির ভাগ ব্যবসায়ীর সামনে দোকান আর পেছনে গুদাম। দোকান থেকে ১০০ মিটার ভেতরেই আগুন লাগে। ওই গুদামের আশপাশে আরও কয়েকটি গুদাম ছিল। তবে সেগুলো আগুন ছড়াতে পারেনি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভান। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় ব্যক্তিরাও।

এ বিষয়ে গুদামের মালিক শামীম হোসেনকে ফোন দেওয়া হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর দোকানকর্মচারী লাইলি বেগম জানান, তিনি এখানে এসে চলে গেছেন। গুদামে আগুন দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা আগুন লাগার ঘটনাটি বেলা ১টা ৪০ মিনিটে জানতে পারেন। এর ১০ মিনিটের মাথায় তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। এতে শারিরীকভাবে কেউ আহত হননি। আশপাশের গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। গুদামের মালিকের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়নি। তাই ক্ষতির পরিমাণ তাঁরা তাৎক্ষণিক জানাতে পারছেন না। আর আগুন লাগার নির্দিষ্ট কারণও তাঁরা বলতে পারছেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন