জাহাঙ্গীর শাহ্ বলেন, টানা খরার কারণে মাটি শুকিয়ে পানি ধারণক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এর মধ্যে লিচুর ফলনে পানির প্রয়োজন পড়ে বেশি। অনাবৃষ্টির কারণে লিচুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে।

শুধু ওষুধনির্ভর হলেই ফসল ভালো হয় না, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২১ সালের ১৩ মার্চ দুপুরে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এরপর ২১ এপ্রিল ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হালকা বৃষ্টি হয়। এ ছাড়া ওই বছর এপ্রিল মাসের বাকি দিনগুলোয় কোনো বৃষ্টির দেখা মেলেনি। এর আগের বছর ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকেই বৃষ্টি হয়েছে। ওই বছরের ১৫ ও ২০ মার্চ এবং ১২ ও ১৫ এপ্রিল বৃষ্টি হয়েছিল। এরপর ৫ মে রাত আটটার পর দীর্ঘক্ষণ ধরে বৃষ্টি হয়।

এদিকে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষেরা চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাজশাহী নগরের কুমারপাড়া এলাকায় আজ দুপুরে কথা হয় রিকশাওয়ালা মোহাম্মদ আলমের সঙ্গে। এ সময় তিনি মাথায় পেঁচিয়ে গামছা পরেছিলেন। মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘আজ চার দিন থাইক্যা একই হারে গরম। একই রকম রোদ। এই কারণেই মাথায় গামছা দিছি। খুব কষ্ট হয়। গরিবের ঘরে জন্ম নিয়া কষ্ট ছাড়া কী করব!’

সাহেব বাজার মাস্টারপাড়ার রাস্তায় প্রতিদিনের মতো আজ দুপুরেও পুঁইশাক নিয়ে বসে ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বন্ধের পরে শনিবারে বেচাবিক্রি ভালো হয়। কিন্তু আজ রোদের কারণে মানুষজন বাইরে আসছে কম। তাই বেচাবিক্রিও কম। সব শাক শুকায়ে রইছে।’

জানতে চাইলে গোদাগাড়ীর নিমঘটু গ্রামের কৃষক কংগ্রেস টুডু বলেন, ধানের এখন শিষ বের হচ্ছে। এই সময় জমিতে পানি ধরে রাখা দরকার। কিন্তু পানি দিতে না দিতেই নেই হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা হয় রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোজদার আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, সেচ দিতে পারেননি—এমন আমচাষিদের এই রোদে কিছু ক্ষতি হতে পারে। আর ধানের ক্ষেত্রে রোদ হলে পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হয়। চৈতালি মাড়াইয়ের জন্যও রোদের দরকার আছে।

গরমে রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া প্রসঙ্গে রাজশাহীর সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, মানুষের শরীরের ভেতরে স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাইরে যখন এর বেশি তাপমাত্রা হয়, তখন শরীরের বিভিন্ন সিস্টেম আর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এতে স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যা দেখা দেয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন