default-image

রাজশাহীর দুটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে একজন নারী পুলিশ পরিদর্শক লিখিত অভিযোগ করেছেন। গতকাল বুধবার রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে অভিযোগটি জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ওই নারী পুলিশ পরিদর্শক। তবে পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক গতকাল প্রথম আলোকে বলেছেন, এ রকম কোনো অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি।

যে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাঁরা হলেন রাজশাহী নগরের দামকুড়া থানার ওসি মাহবুব আলম ও বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ। তাঁদের মধ্যে মাহবুব আলম নারী পরিদর্শকের সাবেক স্বামী। ২০১৮ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে নারী পরিদর্শক রাজশাহীর স্থানীয় একটি দৈনিকের শিক্ষানবিশ সাংবাদিক মাহবুব হুসাইনকে বিয়ে করেন। ওই নারী পরিদর্শক বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত আছেন।

তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগে নারী পরিদর্শক বলেছেন, তাঁর সাবেক স্বামী মাহবুব আলম বর্তমান স্বামী মাহবুব হুসাইনকে মতিহার থানায় ডেকে নিয়ে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘বিয়ে করে তুমি ভালো থাকতে পারবে না।’ অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বোয়ালিয়া থানায় যখন যোগদান করেন, তখন তাঁর সাবেক স্বামী ওই থানাতেই পরিদর্শক (তদন্ত) ছিলেন। ওই সময় ওসি নিবারণকে সাবেক স্বামীর ব্যাপারে বলতে গেলে তিনি উল্টো তাঁকে ভালো লাগার কথা বলেন। এ ছাড়া বোয়ালিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে তাঁকে ফোন করে বিরক্ত করার অভিযোগ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

নারী পরিদর্শক অভিযোগ করেছেন, ১৫ মার্চ রাত আড়াইটার দিকে বাসা থেকে তাঁর স্বামীকে বোয়ালিয়া থানার পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। পরের দিন বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁর নামে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাঁর স্বামীকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৬ মার্চ সকালে তিনি বোয়ালিয়া থানায় গিয়ে তাঁর স্বামীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। ওই নারীর দাবি, তাঁর স্বামী শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। শুধু তাঁর কারণে স্বামীকে হেনস্থা করা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে দামকুড়া থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর তাঁর সাবেক স্ত্রী বা তাঁর স্বামীর সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়নি। কেউ প্রমাণ করতে পারলে যেকোনো শাস্তি তিনি মেনে নেবেন।

এ ব্যাপারে বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, কী অভিযোগ হয়েছে তিনি জানেন না। পুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া অভিযোগের বর্ণনা শুনে তিনি বলেন, জামায়াতবিরোধী অভিযান চালালে ওই নারী পরিদর্শকের স্বামী জামায়াতের কর্মীদের কাছে তথ্য পাচার দিতেন—এমন প্রমাণ তাঁদের কাছে আছে। ওই নারীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়নি বলে ওসির দাবি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন