দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে রাজশাহীর ব্যাবসায়ীদের বিক্ষোভ সমাবেশ। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের আরডিএ মার্কেটের সামনে।
দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে রাজশাহীর ব্যাবসায়ীদের বিক্ষোভ সমাবেশ। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের আরডিএ মার্কেটের সামনে। ছবি: শহীদুল ইসলাম

রমজান মাসকে সামনে রেখে সরকারের ঘোষিত ‘লকডাউনে’ দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা। আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাঁরা নগরের আরডিএ মার্কেটের সামনে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে রাজশাহী আরডিএ মার্কেট ব্যবসায়ী ও সাহেব বাজার কাপড়পট্টির ব্যবসায়ীরা ছিলেন।

গতকাল রোববার আরডিএ মার্কেট ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। তাঁরা সেদিন ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখবেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টার দিকে আরডিএ মার্কেটের কিছু ব্যবসায়ী দোকানপাট খুলে দেন। তবে সে সময় কোনো ক্রেতা ছিল না। পুলিশ বাইরে সে সময় মাইকিং করে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ করে দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিচ্ছিলেন। মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকও সে সময় ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করে গেছেন।

সকাল ১০টার দিকে ধীরে ধীরে দোকানের কর্মচারী–দোকানিরা আসতে থাকেন। আরডিএ মার্কেট ও কাপড়পট্টির ব্যবসায়ী নেতারাও আসতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১০টার মধ্যে আরডিএ মার্কেটের সামনে বিপুল পরিমাণ জমায়েত তৈরি হয়। তাঁরা মার্কেট খোলার দাবিতে স্লোগান দিয়ে বেলা ১১টার দিকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। এতে রাস্তা অবরোধ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের কারণে দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উত্তেজিত দোকানিরা দুই পাশের গাড়ি আটকিয়ে দেন। তাঁরা অনেক যাত্রীকে নামিয়ে দেন। প্রশাসনের বিভিন্ন গাড়ি ও এটিএম বুথের টাকা বহনকারী গাড়িও তাঁরা আটকে দেন। একজন পথচারীকে মেরে গায়ের গেঞ্জি খুলে ফেলতেও দেখা গেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম। তিনি ব্যবসায়ীদের দোকানপাট বন্ধ করে বাড়িতে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং সরকারি নির্দেশনা মানার অনুরোধ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে কথা বলেন আরডিএ ও কাপড়পট্টি মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতারা।

default-image

ব্যবসায়ী নেতারা ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে বলতে থাকেন, গত লকডাউনের সময় সরকারের দেওয়া প্রণোদনার অর্থ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কেউই পাননি। পেয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন শিল্পপতি। যদি হাজার হাজার শ্রমিক নিয়ে বড় বড় কলকারখানাগুলো সীমিত আকারে চলতে পারে, তবে তাঁরা কেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে পারবেন না? তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে দোকানপাট খোলা রেখে স্বাভাবিক নিয়মে ব্যবসা করতে চান।

এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের উদ্দেশে বলেন, তিনি বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন। তবে আজ দোকানপাট বন্ধ রাখেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা বলেন, কাল যে সিদ্ধান্তই আসুক, তাঁরা তাঁদের নিয়মে দোকানপাট খুলবেন।

default-image

এরপর সেখানে হ্যান্ডমাইকে রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মামুদ হাসান বলেন, ‘আপনারা আজ দোকানপাট বন্ধ রেখে বাড়িতে চলে যান। যে সিদ্ধান্তই আসুক, কাল আপনারা আপনাদের সময়ে দোকানপাট খুলে দিবেন।’ এই ঘোষণায় দুপুর ১২টার পর দোকানের কর্মচারীরা সড়ক থেকে আরডিএ মার্কেটের ভেতরে চলে যান।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম পরে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দোকানপাট বন্ধ রাখতে হবে। তাঁরা ব্যবসায়ীদের দাবিদাওয়া শুনেছেন এবং সে অনুযায়ী সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, তিনি বর্তমান পরিস্থিতি এবং সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। তিনি আশা করছেন, বর্তমান কোভিড পরিস্থিতির ভয়াবহতা মাথায় রেখে তাঁরা (ব্যবসায়ীরা) সরকারি সিদ্ধান্ত মানবেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন