বিমল সিংয়ের ছোট ভাই নির্মল সিংয়ের ছেলে প্রকাশ সিংকে (২০) হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের এই দণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাজশাহী শহরের নবরূপ মিষ্টান্ন ভান্ডার নামের একটি দোকানের পরিবেশক ছিলেন প্রকাশ। গত বছরের ২৯ এপ্রিল সকালে তানোরের বংশীধরপুর ব্রিজের কাছে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। সে সময় লকডাউনের কারণে তিনি গ্রামে থাকতেন। প্রকাশের লাশের গলা কাটা ছাড়াও মাথায়, পিঠে ও বাঁ হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। এ ঘটনায় প্রকাশের বাবা নির্মল সিং তানোর থানায় হত্যা মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, অঞ্জলি রানীর সঙ্গে বাদল মণ্ডলের পরকীয়া ছিল। নির্মল ও তাঁর ছেলে প্রকাশ এর প্রতিবাদ করলে বাদল তাঁদের হুমকি দিয়েছিলেন। তাই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকাশকে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের ছয় দিনের মধ্যে তানোর থানার পুলিশ এই চারজনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০২১ সালের ২৮ এপ্রিল রাতে বিমল ও তাঁর ছেলে সুবোধ কৌশলে প্রকাশকে ফসলের মাঠের নির্জন রাস্তার ধারে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন বাদল ও অঞ্জলি। পরে চারজন মিলে প্রকাশকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার পর আসামিরা এ হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। চার আসামির মধ্যে তিনজন কারাগারে ছিলেন। জামিনে ছিলেন অঞ্জলি। রায় ঘোষণার দিন সবাই আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন। রায়ের পর আসামিদের সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মেজবাউর রহমান। তিনি বলেন, তাঁরা উচ্চ আদালতে যাবেন। আশা করছেন, উচ্চ আদালতে আসামিরা খালাস পাবেন।