রাজশাহীতে বিএমডিএর সেচব্যবস্থা দেখলেন নেপালের মন্ত্রী
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সেচব্যবস্থা দেখতে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এসেছিলেন নেপালের জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচমন্ত্রী পাম্পা ভুসাল। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে পানি নেওয়া ও পদ্মা নদী থেকে সরমংলা খালের মাধ্যমে সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা দেখে মন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, নেপালেও বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো মাটি আছে। তাঁরা সেখানে এ ধরনের প্রকল্প চালু করতে চান। বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম নেপালের মন্ত্রীকে বিদায় দেওয়ার পর প্রথম আলোর কাছে তাঁদের এ প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন।
মন্ত্রীর সঙ্গে নেপালের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), নেপালের ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ছিল। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁরা রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ছলং গ্রামে গিয়ে একটি গভীর নলকূপ পরিদর্শন করেন। ওই নলকূপের মাধ্যমে বিএমডিএ কীভাবে ভূগর্ভস্থ পানি তুলছে, কৃষকেরা কীভাবে প্রিপেইড মিটারের সাহায্যে পানি নিচ্ছেন, কীভাবে তা কৃষকের জমিতে যাচ্ছে—সব পর্যবেক্ষণ করে নেপালের প্রতিনিধিদল। এ ছাড়া বিএমডিএর গভীর নলকূপে তোলা পানি পানের জন্য কীভাবে পাইপলাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে, সেটিও তাঁরা দেখেন।
নেপালের প্রতিনিধিদলটি পরে গোদাগাড়ীর আমতলী ও সরমংলা খাল পরিদর্শন করে। পাইপলাইনের মাধ্যমে এ খালে পদ্মা নদী থেকে মাটির উপরিভাগে পানি সরবরাহ করা হয়। সরমংলা খালের পাড়ে তাঁরা এসব বিষয়ে বিএমডিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিএমডিএর চেয়ারম্যান বেগম আখতার জাহানের সভাপতিত্বে সভায় বিএমডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচ ব্যবস্থাপনার সার্বিক দিক নেপালের প্রতিনিধিদলের কাছে বুঝিয়ে দেন।
এ সময় নেপালের জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেবেন্দ্র কারকি, জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সুরেন্দ্র লাভ কর্ণ, জলসম্পদ ও সেচ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুশীল চন্দ্র আচার্য, নেপালের যান্ত্রিক সেচ উদ্ভাবন প্রকল্পের পরিচালক দীপেন্দ্র লৌদারি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব দিল বাহাদুর ছেত্রী, পবিত্র গাইরে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া এডিবির বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর পুষ্কর শ্রীবাস্তব, ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কর্মকর্তা আলমগীর আকন্দ, জলসম্পদ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ল’হোস্টিস, নেপালের রেসিডেন্ট মিশনের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা অরুণ রানা, এডিবির কনসালট্যান্ট আশীষ ভদ্র খল ও পরামর্শক আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, প্রতিনিধিদল বিএমডিএর কার্যালয় ঘুরে দেখে এবং বিএমডিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে বিকেল চারটার দিকে তাঁরা রাজশাহী ত্যাগ করেন।
প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, নেপালের মন্ত্রী বিএমডিএর সেচব্যবস্থা দেখে পছন্দ করেছেন। বিএমডিএ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সরকার থেকে কোনো বেতন নেয় না। নিজের ব্যবস্থাপনায় চলে, এটা জেনে বিষয়টিকে ‘আনকমন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নেপালেও বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো মাটি আছে। এ রকম একটি প্রকল্প তাঁদের পাইপলাইনে আছে।