মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে নিজামুল ইসলামের ছেলে (৮) বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে যায়। সেখানে প্রতিবেশী সাইফুল ইসলামের ছেলেও (৯) খেলছিল। একপর্যায়ে ওই দুই শিশুর মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে গতকাল বিকেলে বাড়ির সামনে সাইদুলের সঙ্গে নিজামুলের দেখা হলে নিজামুল শিশুদের ঝগড়ার বিষয়টি জানতে চান। এ সময় সাইফুল ও নিজামুল বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান।

একপর্যায়ে সাইদুল ক্ষিপ্ত হয়ে নিজামুলকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। এতে নিজামুল গুরুতর আহত হন। পরে নিজামুলের স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী সেলিনা সুলতানা বলেন, তাঁর স্বামীর ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়েছিল। শিশুদের বিবাদকে কেন্দ্র করে সাইদুল তাঁর স্বামীকে আঘাত করেন। চড় মেরে ফেলে দিয়ে বুকের ওপর উঠে এলোপাথারি কিল-ঘুষি মারায় তাঁর স্বামী মারা গেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

আজ বেলা ২টার দিকে নিজামুলের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ডাবলু সরকার বলেন, সাইদুল জানতেন যে, নিজামুল হৃদরোগে আক্রান্ত। তবুও তিনি বুকে আঘাত করেছেন। তাঁরা অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত সাইদুলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম পালিয়ে গেছেন। নিহত নিজামুলের বাড়ির পাশেই তাঁর বাড়ি।ওই বাড়িতে গিয়ে সাইদুল ও তাঁর পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিহত নিজামুল ইসলাম খানের পরিবারের দাবি, শিশুদের খেলাধুলার বিবাদের জেরে নিজামুলকে মারধর করেছেন সাইফুল। মারধরের কারণে গুরুতর আহত হয়ে নিজামুলের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে সাইফুলের পরিবারের দাবি, নিজামুল হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার থেকে মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।