বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজশাহীর সাংবাদিক নেতারা বলেন, একটি ভুঁইফোড় প্রেসক্লাবের ব্যানারে কথিত সাংবাদিকেরা মানববন্ধন করতে যান নগরের শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরে। তাঁরা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব, আঞ্চলিক শিক্ষা ভবনের পরিচালক এবং সহকারী পরিচালকের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

তবে ওই তিন কর্মকর্তা বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে অনৈতিক সুবিধা চেয়ে না পেয়ে তাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছেন। তাঁরা এ ব্যাপারে রাজশাহীর পেশাদার সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে কারা মানববন্ধন করছেন, তা দেখতে ঘটনাস্থলে যান রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন সাংবাদিক। রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকতার নামে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য আয়োজকদের বলেন। এ সময় পুলিশের সামনেই রফিকুল ইসলামের ওপর চড়াও হন কথিত সাংবাদিকেরা। তাঁকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাঁরা স্থানীয় সাংবাদিক রাজু আহমেদ, কাবিল হোসেন, সেলিম জাহাঙ্গীর ও আজম খানকেও লাঞ্ছিত করেন।

default-image

এ ঘটনার প্রতিবাদে কামারুজ্জামান চত্বরে রাস্তায় বসে পড়েন ক্ষুব্ধ সাংবাদিকেরা। এ সময় তাঁরা হামলাকারী কথিত সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার এবং নগরের বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মনের প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। দুপুরের দিকে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগরে সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এ সময় পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও সেখানে যান।

বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব রাশেদ রিপন, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান প্রমুখ।

একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতা ডাবলু সরকার সাংবাদিক নেতাদের বিষয়টি নিয়ে মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের সঙ্গে বসার অনুরোধ জানান। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসে। পুলিশ কমিশনার দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাংবাদিকেরা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।

সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদল পুলিশ কমিশনারের কাছে গেলেও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলছিল। তবে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, তিন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর সাংবাদিকেরা অবরোধ তুলে নেন।

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আর পুলিশ কমিশনার বোয়ালিয়ার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মনকে প্রত্যাহার করতে তিন দিন সময় চেয়েছেন। আমরা ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে ওসি প্রত্যাহার না হলে বুধবার দুপুর ১২টায় বোয়ালিয়া থানা ঘেরাও করা হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন