বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলার একমাত্র আসামি ভুয়া চিকিৎসক মফিজুল হক। তিনি রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার এমাদপুর মহল্লার বাসিন্দা। কিন্তু তিনি কাটাখালী বাজারে চেম্বার খুলে নিয়মিত রোগী দেখতেন। সাইনবোর্ডে নিজের নামের সঙ্গে ব্যবহার করতেন ‘ডা.’ পদবিও। এলাকার লোকজন তাঁকে ‘মফিজ ডাক্তার’ নামেই চেনেন।

মামলার বাদী আয়নাল হকের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মিরকামারী দালালপাড়া গ্রামে। সম্প্রতি তিনি মফিজুলের চেম্বারে গিয়ে তাঁর ছেলে আবদুর রাফির (৭) একটি দাঁত তোলেন। এরপর ব্যথা না কমার কারণে ২৬ আগস্ট আবার তাঁর চেম্বারে যান। তখন মফিজুল একটি সিরাপ দেন।

সিরাপ সেবনের কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তার সারা শরীরে আগুনে পোড়ার মতো ফোসকা পড়ে যায়। শিশুটির খাওয়াদাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। শিশুটি এখনো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগে চিকিৎসাধীন। শিশুটির চোখ ও কণ্ঠনালির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘কথিত চিকিৎসকের ওষুধে শিশুটির সর্বনাশ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এদিকে ঘটনার পর থেকে ভুয়া চিকিৎসক মফিজুল হক চেম্বার খোলেন না। ওই শিশুকে দেওয়া ব্যবস্থাপত্রে দেখা গেছে, মফিজুল হকের নামের নিচে পদবি হিসেবে লেখা হয়েছে, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল), এফটি, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭৬৫৩। অথচ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এ ধরনের কোনো ডিগ্রি দেওয়া হয় না। তাঁর বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ রেজিস্ট্রেশন নম্বরটিও ভুয়া। অনুষদ এ ধরনের কোনো নিবন্ধন দেয় না বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন