আটক পাঁচজন হলেন ব্যবসায়ী বিকাশ কৃষ্ণ সরকার , শৈলেন কুমার পাল, এমদাদুল হক, রাজিব সাহা ও ট্রাকচালক মোহাম্মদ লিটন।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, বানেশ্বর বাজারের সরকার অ্যান্ড সন্স থেকে ৪৮ ব্যারেল সয়াবিন ও ২৬ ব্যারেল পাম তেল; ইন্তাজ স্টোর থেকে ২২ ব্যারেল সয়াবিন তেল ও ১২০ ব্যারেল পাম তেল; মেসার্স পাল অ্যান্ড ব্রাদার্স থেকে ৩ ব্যারেল সয়াবিন ও ১০০ ব্যারেল পাম তেল এবং রিমা স্টোর থেকে ৪৮ ব্যারেল সয়াবিন ও ২৭ ব্যারেল পাম তেল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুরাতন বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ট্রাকে বোঝাই করা ৬০ ব্যারেল পাম তেল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যারেলে ২০৪ লিটার ভোজ্যতেল রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১২১ ব্যারেল সয়াবিন তেল ও ৩৩৩ ব্যারেল পাম তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

বিকেল সাড়ে চারটায় অভিযান শুরু করা হয়। পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রথমে ট্রাকটি আটক করা হয়। ট্রাকের চালক তখন বলেন, তিনি বানেশ্বরের একটি ডাল মিলে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর ট্রাকে ৬০ ব্যারেল পাম তেল পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম রয়েছেন এবং পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন রওনা দিয়েছেন। পুলিশ সুপার আসার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের অভিযান সম্পর্কে বলা হবে।

রিমা স্টোরের মালিক রাজীব সাহা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা তেল মজুত করেন না। বানেশ্বর থেকে তাঁরা চার-পাঁচটি থানায় এই ভোজ্যতেল সরবরাহ করেন। পুলিশ তাঁদের কাগজপত্র দেখলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে বলে আশা করছেন তিনি।

সরকার অ্যান্ড সন্সের মালিক বিকাশ কৃষ্ণ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা কখনো তেল মজুতের ব্যবসা করেন না। তাঁদের সয়াবিন সরকারিভাবে দাম বাড়ানোর পরে কেনা। আর পাম তেল ঈদের এক দিন আগে তাঁর গুদামে এসেছে।

অভিযানের পর রাজশাহীর পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের কাছে তথ্য ছিল— অতিরিক্ত মুনাফার লোভে রমজানের শুরু থেকেই গুদামগুলোতে ভোজ্যতেল মজুত করা হচ্ছিল। সেই অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে ৯২ হাজার ৬১৬ লিটার ভোজ্যতেল উদ্ধার করা হয়েছে। দ্রুত আদালতের অনুমতি নিয়ে জব্দ করা তেলগুলো টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো বক্তব্য থাকলে তাঁরা তা আদালতে তুলে ধরতে পারেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন