রাজশাহীর কাটাখালীতে বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষের পর আগুনে পুড়ে যাওয়া লাশ নেওয়ার অপেক্ষা স্বজনেরা। রাজশহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ শনিবার সকালে
রাজশাহীর কাটাখালীতে বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষের পর আগুনে পুড়ে যাওয়া লাশ নেওয়ার অপেক্ষা স্বজনেরা। রাজশহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ শনিবার সকালেশহীদুল ইসলাম

রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনের লাশ আজ শনিবার বিকেলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের নামের বদলে নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। ৯ জনের লাশ একেবারেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ৯টি লাশ পীরগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ আগত স্বজনদের সবাই মিলে নিয়ে গেছেন। তারপরও নিহত সবার লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার পরে নম্বর অনুযায়ী তাঁদের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে। তখন ওই ৯ জনের স্বজনেরা তাঁদের কবর শনাক্ত করতে পারবেন।

এদিকে ঘটনার তদন্তে গতকাল শুক্রবার রাতেই রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলামকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। জানতে চাইলে আবু আসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই তদন্তের কাজ শুরু করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা কারণ চিহ্নিত করেছেন। তবে সব সদস্যের মতামত নিয়ে দু–এক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন, সেখানে একবারেই কারণ জানাবেন।

default-image

পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় হানিফ পরিবহনের চালক আবদুর রহিমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বাড়ৈপাড়া গ্রামে। আজ বেলা ২টার দিকে রাজশাহী মহানগরের বেলপুকুর থানার মাহিন্দ্র বাইপাস এলাকায় কাটাখালী থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে রহিমকে গ্রেপ্তার করে।

৯ জনের লাশ একেবারেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহত সবার লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার পরে নম্বর অনুযায়ী তাঁদের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে। তখন ওই ৯ জনের স্বজনেরা তাঁদের কবর শনাক্ত করতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ফুল মিয়ার পরিবারে এখন শুধু তাঁর বৃদ্ধা মা বেঁচে রইলেন। গতকালের দুর্ঘটনায় ফুল মিয়া, স্ত্রী, তিন সন্তানসহ সবাই মারা গেছেন। তাঁর বৃদ্ধ মা খবর শুনেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ জন্য লাশ নিতে প্রতিবেশীরা এসেছিলেন। আজ সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফুল মিয়ার পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ নিতে এসেছেন কয়েকজন আত্মীয়। তাঁদের মধ্যে একজনের নাম মাহফুজার রহমান (৩২)। তিনি বলেন, ‘লাশ নিতে আসার মতো কেউ নেই। আমরাই প্রতিবেশীরা এসেছি।’ তিনি জানান, পীরগঞ্জ উপজেলা সদরে ফুল মিয়ার ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ বিক্রির দোকান আছে। ফুল মিয়া আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলেন। তাঁর সম্পদ থাকল, কিন্তু কেউ বেঁচে থাকল না। বাড়িতে শুধু বৃদ্ধা মা একা থাকলেন।

default-image

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে বলেন, নিহত ১৭ যাত্রীর নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার পর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। তখন তাঁদের স্বজনদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

গতকাল বেলা পৌনে দুইটার দিকে রাজশাহীর কাটাখালী থানার সামনে মাইক্রোবাস ও একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে যায়। এই আগুনে পুড়েই মাইক্রোবাসের ১৭ যাত্রী মারা যান। এই মাইক্রোবাসে করে রংপুরেৃর পীরগঞ্জ থেকে চারটি পরিবারের ১৮ জন সদস্য রাজশাহীতে বেড়াতে আসছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন শুধু বেঁচে রয়েছেন।

default-image
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন