রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আসন–বাণিজ্যে জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আবাসিক হলগুলোতে আসন–বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এতে জড়িত ছাত্রলীগ নেতা–কর্মীদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ‘রাকসু আন্দোলন মঞ্চ’–এর নেতা–কর্মীরা। সেই সঙ্গে তাঁরা হল প্রাধ্যক্ষদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের আবাসিক–সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের আমতলায় আজ বুধবার বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে রাকসু আন্দোলন মঞ্চ। তাদের দাবিগুলো হলো বৈধ প্রক্রিয়ায় আবাসিকতা প্রদানসহ নিরাপদ পরিবেশে হলে অবস্থানের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা; আবাসিক হলগুলোতে রাজনৈতিক ব্লকের নামে দখলদারত্ব বন্ধ করা ও নিয়মিত হল সংসদ চালু করা; আসন–বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিল করা; অনলাইনে প্রতিটি হলের তালিকা হালনাগাদ করা এবং নিয়ম মেনে হল প্রাধ্যক্ষদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা। এক সপ্তাহের মধ্যে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাকসু আন্দোলন মঞ্চের নেতা–কর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আবদুল মজিদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা প্রকট আকার ধারণ করেছে। একজন শিক্ষার্থীর বৈধভাবে হলে আসন পাওয়া ন্যায্য অধিকার হলেও প্রশাসন সেটা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী হলগুলোতে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আসন বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ হলে তা মানা হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মলনে জানানো হয়, করোনায় বন্ধের পর বিভিন্ন হলে ১০০ থেকে ১৭০টি করে আসন ফাঁকা হয়েছে। সব কটি হলে আসন ফাঁকা হলেও কেবল দুটি হলে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই হল দুটিতে বরাদ্দকৃত শিক্ষার্থীদের ১০ থেকে ১৫ শতাংশও হলে ওঠাতে পারেনি হল প্রশাসন। হলের আসনগুলো ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা দখলে নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ছাত্রী হলগুলোতেও নিয়ম অনুযায়ী গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আসন বরাদ্দ হচ্ছে না। সেখানেও বিভিন্ন জনের সুপারিশে নিয়মবহির্ভূতভাবে ছাত্রীদের হলে উঠানো হচ্ছে।

আবদুল মজিদ দাবি করেন, ছাত্রদের ১১টি হলে করোনাকালে শূন্য হওয়া ১ হাজার ৫০০ আসনের মধ্যে ১ হাজার ১০০ আসনে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থী উঠিয়েছেন। এই লেনদেনের পরিমাণ আসনপ্রতি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। হলে আসন নিয়ে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা একটি চক্র তৈরি করে আসন–বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। কেবল ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্যসচিব আমান উল্লাহ খান, রাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রাবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান, রাবি শাখা নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক মীর আলহাজ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।