গাছ তিনটি কিনেছেন বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কাজলা এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গাছ তিনটি তিনি তিন মাস আগে দরপত্রের মাধ্যমে কিনেছেন। তিনি গাছগুলো মরা হিসেবে কিনেছেন। তখন দুটি মেহগনিগাছে পাতা ছিল না। পরে দেখা গেছে একটি গাছ তাজা। এটা তো তাঁর দেখার বিষয় না।

গত রোববার থেকে পবিত্র শবে কদর, মে দিবস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষার ছুটি চলছে। আগামীকাল বুধবার বিকেল থেকে বন্ধ হচ্ছে আবাসিক হলগুলো। হাতে গোনা কিছু শিক্ষার্থী বর্তমানে হলগুলোতে অবস্থান করছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিবারই ক্যাম্পাসের বন্ধ সময়ে গাছ কাটা হয়। এবারও তাই হলো।

default-image

শাহ মখদুম হলের মিঠুন আলী নামের এক শিক্ষার্থী তাজা মেহগনিগাছের ছবি তুলেছিলেন গত সোমবার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাজা একটি বড় মেহগনিগাছের গায়ে হঠাৎ ক্রস চিহ্ন দেখেন। পরে তিনি গাছটির ছবি তুলে রাখেন। তাঁর ধারণা ছিল, গাছটি কাটা পড়বে। আজই গাছটি কাটা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজশাহী মরুভূমি হতে চলেছে। এখানে একটা গাছও কাটা যাবে না। বরং আরও গাছ লাগাতে হবে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হলের পশ্চিম পাশে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্টোরের উত্তর পাশে একটি মেহগনিগাছের বাগান রয়েছে। এই বাগান থেকে দুটি মেহগনিগাছ কাটা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গাছ তাজা। সকাল থেকে গাছগুলো কাটা শুরু হয়। বিকেলের দিকে গাছগুলো করাত চালিয়ে শ্রমিকেরা খণ্ড করছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ লাগানো, পরিচর্যা, গাছ বিক্রির অনুমতিসহ যাবতীয় কাজ করে কৃষি প্রকল্প। প্রকল্পের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা দরপত্রের মাধ্যমে গাছ তিনটি মরা মনে করেই বিক্রি করেছিলেন। এর মধ্যে গত শীতের আগেই একটি মেহগনিগাছের পাতা ঝরে যায়। অন্যান্য গাছে পাতা গজালেও ওই গাছের পাতা পরেও গজায়নি। তাঁরা এটাকেও মৃত ধরে তিনটি গাছ বিক্রি করেন। কিন্তু পরে দেখেন যে ওই মেহগনিগাছের পাতা গজিয়েছে। কিন্তু পরে আর তাঁরা দরপত্র বাতিল করতে পারেননি।

মো. সাজ্জাদ হোসেন আরও বলেন, এটা তাঁদের অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ভুল। একটি গাছ এ রকম করে পরে তাজা হবে, এটা তিনি তাঁর ২৪ বছরের চাকরিজীবনে দেখেননি। গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ, ভবন নির্মাণ করতে হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ স্বার্থে সব আইনকানুন মেনে গাছ কাটা হয়। কিন্তু যে জায়গায় তাজা মেহগনিগাছটি ছিল, ওখানে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। গাছটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলেই কাটা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন