হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম ইয়াজদানী প্রথম আলোকে বলেন, সর্বোচ্চ ৭৭ রোগী ভর্তির রেকর্ডটি চলতি মাসের এক দিনের। এখন দৈনিক ভর্তি রোগীর সংখ্যা ঘুরেফিরে এই ৭৭-এর আশপাশেই থাকছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আপাতত দৈনিক ৭৭ রোগী ভর্তিকেই সর্বোচ্চ চূড়া ধরছি। এখন এই সর্বোচ্চ চূড়াও যদি অতিক্রম করে যায়, তাহলে হাসপাতালের চিকিৎসা সামর্থ্য নিয়ে সমস্যা তৈরি হবে। এ জন্য এখন জরুরি হচ্ছে চিকিৎসার সামর্থ্য বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের দিকে নজর দেওয়া। তা ছাড়া এভাবে রোগী আসতেই থাকলে সেটা সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।’

পরিচালক শামীম ইয়াজদানীর পর্যবেক্ষণ, বেশির ভাগ রোগীই গ্রাম থেকে আসছে। মৃত্যুর হারও বেশি গ্রামের রোগীদের মধ্যেই। এখন পর্যন্ত তাঁদের কাছে যা হিসাব আছে, তাতে ৬০-৭৪ শতাংশ রোগীই গ্রাম থেকে আসছেন। গ্রামে সামাজিক সচেতনতা বলে কিছুই নেই। আবার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেও সহজে গুরুত্ব দেয় না। অনেকেই আর্থিক সংগতি না থাকায় একেবারে মুমূর্ষু অবস্থায় না পৌঁছালে রোগীকে হাসপাতালে নিতে চান না। এ কারণে গ্রামের রোগীর মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি। গ্রামের করোনায় সংক্রমিত মানুষকে ‘আইসোলেশন’ করার ব্যবস্থা না করলে এই সংক্রমণের ভয়াবহতা এড়ানো কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে রোগী বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে শয্যা ৪০৫টি থেকে বাড়িয়ে ৪৫৪টি করা হয়েছে। আরও দুটি ওয়ার্ড করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিটি শয্যাকেই কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই দুটি ওয়ার্ড প্রস্তুত হলে আরও ১০০ রোগীকে উপযুক্ত সেবা দেওয়া যাবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বর্তমানে হাসপাতালে ৭১টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা ও প্রায় ১ হাজার ২০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার, সরাসরি বাতাস থেকে অক্সিজেন তৈরির ২৪২টি কনসেন্ট্রেটরের ব্যবস্থা রয়েছে। ভেন্টিলেশনসহ আইসিইউ–সুবিধা রয়েছে হাসপাতালের ২০টি শয্যায়।

হাসপাতালের ১ নম্বর করোনা ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার ভর্তি হয়েছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার রোগী জালাল উদ্দিন (৩৯)। সৌদিপ্রবাসী এই ব্যক্তি সম্প্রতি বাড়িতে এসে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। তাঁর আত্মীয় সোহেল রানা জানান, ৩ জুলাই জালালের সৌদি আরবে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ১ জুলাই করোনা পজিটিভ আসে। প্রথম দিকে কোনো উপসর্গ ছিল না। চিকিৎসক বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অক্সিজেন দিলে ভালো থাকছেন। আর তা না দিলেই সমস্যা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।

রাজশাহীতে গত ১১ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দুই সপ্তাহ লকডাউন চলে। সেটা শেষ হতে না হতেই ২৪ জুন মধ্যরাত থেকে রাজশাহীসহ সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১ জুলাই থেকে চলছে সর্বাত্মক লকডাউন। কিন্তু হাসপাতালে রোগী ভর্তি কমছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহীর সিভিল সার্জন কাউয়ুম তালুকদার আজ প্রথম আলোকে বলেন, লকডাউন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুফলটা পাওয়া যায় না। একটু অপেক্ষা করতে হয়। চলমান কঠোর বিধিনিষেধের সুফল সামনের দিনগুলোতে পাওয়া যাবে।