বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল নয়টার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাসান আলী চৌকিদারের ছেলে মো. গিয়াসউদ্দিন ইউনিয়নের জনতাবাজার চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিজানুর রহমানের কর্মী–সমর্থকেরা তাঁর পা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেন। একই সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছিদ্দিক হাওলাদারের ছেলে আবদুস সালাম হাওলাদারের ওষুধের দোকানে (জনতাবাজার) হামলা চালান তাঁরা। তাঁর মাথা ও শরীরে বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাঁদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নিরুপম সরকার বলেন, গিয়াসউদ্দিন ও আবদুস সালামের পা, ঘাড় ও মাথায় কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আবদুস সালামের রগ কেটে যাওয়ায় ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাঁদেরকে বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

default-image

‘বিদ্রোহী’চেয়ারম্যান প্রার্থী (মোটরসাইকেল প্রতীক) রেজাউল হক মিঠু চৌধুরী বলেন, রাজাপুরের মানুষ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমানের সন্ত্রাসীদের কারণে আতঙ্কে আছে। আগের নির্বাচনে মিজানুর রহমানকে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান বানিয়েছিল। কিন্তু ত্রাণ চুরির দায়ে তিনি বরখাস্ত হয়েছেন। ত্রাণ চুরি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে এবার তিনি ভোটশূন্য। তাই তিনি সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু করেছেন, যাঁকে পাচ্ছেন, তাঁকে পিটিয়ে-কুপিয়ে জখম করেছেন।

‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল হক আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিজানুর রহমানের কর্মী–সমর্থকেরা আজ সকালে জনতাবাজারে আমার কর্মী গিয়াসউদ্দিন ও আবদুস সালামকে কুপিয়ে জখম করেছেন। এ সময় মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। মিজানুরের সন্ত্রাসী বাহিনী আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক চৌকিদারের বাড়িতে বোমা মেরেছেন। পূর্ব-কন্দ্রকপুর গ্রামে তাঁর কর্মীদের বাড়ি বাড়ি ২০টির বেশি বোমা মারা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনা প্রতিপক্ষের প্রার্থীর কর্মী–সমর্থকদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি হামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সকাল থেকেই নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলাম। খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুই দেখতে পাইনি।’

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভোলা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিয়াদ হাসান বলেন, ‘রাজাপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের কুপিয়ে জখম করার খবর শুনেছি। থানার ওসিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাতে বলেছি। স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মামলা করতে বলেছি।’
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘রাজাপুরে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। তবে কেউ এখনো অভিযোগ করেনি।’

সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, আগামী ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপে সদর উপজেলার ১২টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রাজাপুর ইউপি একটি। এখানে দুজন চেয়ারম্যান প্রার্থী।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন