বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোরগ লড়াইয়ে অংশ নেয় দুটি তেজি আসিল মোরগ। গ্রামীণ এই ঐতিহ্যবাহী মোরগ লড়াই দেখতে মেলামঞ্চে ভিড় করেন হাজারো দর্শক। কারাতে, কুংফু ও মার্শাল আর্টের নানা কায়দাকানুনের মতো এ লড়াইয়ে একেকটি দুর্ধর্ষ লড়াকু মোরগ নিজস্ব স্টাইলের ‘ফ্লাইং কিক’ মারছিল। কয়েক শতকের পুরোনো এই মোরগ লড়াই এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। এ খেলায় পালানোর কোনো পথ নেই। জিততে হলে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হয়।

আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়ার বৈশাখী মেলায় মোরগ লড়াইয়ের আয়োজন এখন রীতিমতো ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে। ৪১ বছর ধরে বৈশাখী মেলায় মোরগ লড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈশাখী মেলায় এ লড়াইকে সামনে রেখে কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু হয় মোরগকে তেজি করে তোলার তোড়জোড়। লড়াইয়ের জন্য অনেকেই তেজি মোরগ পুষে প্রশিক্ষণ দেন।

কথিত আছে, মোগল আমলে সরাইলের এক দেওয়ান সুদূর ইরান থেকে একধরনের যুদ্ধবাজ মোরগ এ দেশে নিয়ে আসেন, যা পরবর্তী সময়ে ‘আসিল মোরগ’ নামে পরিচিতি পায়। সে সময় দেওয়ানদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় এ অঞ্চলে মোরগ লড়াইয়ের গোড়াপত্তন ঘটে, যা পরে দেশের অনেক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন তাঁর ‘ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’ গ্রন্থে বলেছেন, ঢাকার আদি এ প্রতিযোগিতা মোগল আমলের শেষ দিকে অব্যাহত ছিল। ধনাঢ্য ব্যক্তিরা ছিলেন মোরগ লড়াইয়ের পৃষ্ঠপোষক। তাই একে শাহি শখ বলা হতো। ধনীদের এ আয়োজনে অংশ নিত ভিনদেশি জাতের মোরগ। আর দেশি মোরগের লড়াই ছিল সাধারণের আয়োজন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণত কোনো প্রতিযোগিতার আগে নিজের সংগ্রহে থাকা মোরগগুলোর মধ্যে লড়াই বাধিয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী মোরগটিকে বাছাই করা হয়। এরপর চলে বিশেষ প্রশিক্ষণ। একটা মোরগ কমপক্ষে দুই ঘণ্টা লড়াই করতে পারে। আর চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ের নির্ধারিত সময় ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। লড়াইয়ের পর দীর্ঘ সময় মোরগগুলোকে খুব যত্নে রাখতে হয়। যেমন গরম সেঁক দেওয়া, মালিশ করা, ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ানো। সাধারণত ভালো জাতের এক দিনের একটা বাচ্চা মোরগ ৫০০ থেকে কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আর লড়াইয়ের উপযোগী পূর্ণবয়স্ক একটা মোরগের দাম নির্ধারণ করে জাত ও লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার ওপর। এ ক্ষেত্রে মোরগটি কতগুলো লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে, কতগুলো লড়াইয়ে জিতেছে—এসব বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই নিরিখে পূর্ণবয়স্ক মোরগের দাম লাখ টাকায় উঠতে পারে।

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী এই মোরগ লড়াইয়ের আয়োজক ও বৈশাখী মেলা কমিটির আহ্বায়ক বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এবার আসিল মোরগ লড়াইয়ে দুটি লড়াকু মোরগ অংশ নিয়েছে। চূড়ান্ত লড়াইয়ে রাজা-বাদশাহকেই যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন করা হয়েছে।

আয়োজকেরা জানান, সন্ধ্যায় মেলামঞ্চে বাউল গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী নছিমন পালা পরিবেশিত হয়। শুক্রবার সমাপনী দিনে বৈশাখী মেলায় বগুড়া থিয়েটার বনাম কলেজ থিয়েটারের মধ্যে হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় মেলামঞ্চে সংগীত পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় বাউল শফী মণ্ডল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন