একটি মার্কেটের নিচে বসে আছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এলাকার নলসন্ধ্যা গ্রামের আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘সাহ্‌রি খেয়ে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় এসে কোনো বাস না পেয়ে বসে আছি। বাস না পেলে হয়তো ট্রাকে উঠে যেতে হবে।’

বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাইকড় গ্রামের বাসিন্দা আফজাল হোসেন চাকরি করেন পূর্ব চন্দ্রা এপেক্স লেঞ্জারি কারখানায়। গতকাল কারখানা ছুটি হয়েছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাতেই চন্দ্রা ত্রিমোড় তিন-চার ঘণ্টা বসে থেকে গাড়ি না পেয়ে ফিরে যান। আবার আজ সকালে চন্দ্রায় এসেছেন। তিনি কোনো গাড়ি না পেয়ে একটি ট্রাকে উঠে বসেন।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের পর গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন এলাকার সব কারখানা ছুটি হয়ে যায়। এ কারণে সন্ধ্যার পর থেকে ঘরমুখী মানুষ একযোগ বেরিয়ে পড়েন সড়কে। এতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাতভর যানজটের পর সকাল থেকে ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করে যান চলাচল।

গতকাল রাতে যানজটে আটকা পড়া যাত্রী ও সড়কে দায়িত্বরত পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে ঈদযাত্রা শুরু হলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কোথাও যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। এমনকি যানজটপ্রবণ এলাকাতেও কোনো যানজট হয়নি। গতকাল দুপুরের পর থেকে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হতে শুরু করে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে শুরু করে গাজীপুরা পর্যন্ত এবং টঙ্গী থেকে চেরাগআলী পর্যন্ত যানজট আছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) অবদুল্লাহ আল-মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দিকে যানবাহনগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে। তবে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে কিছুটা থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সেটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তাঁর আশা।

কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন বলেন, চন্দ্রা এলাকায় যানবাহনের চেয়ে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বেশি। পর্যাপ্ত পরিবহন না থাকায় লোকজনকে চন্দ্রা এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আজ সন্ধ্যার দিকে হয়তো আবার যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন