বিজ্ঞাপন

জলোচ্ছ্বাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমুদ্র উপকূলীয় ১৭টি গ্রাম। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জলোচ্ছ্বাসে এই ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া, সমিতিপাড়া, বন্দরপাড়া, নাজিরারটেক, ফদনারডেইল, বাগানপাড়া, মোস্তাকপাড়া, বাসিন্যাপাড়া, উত্তর কুতুবদিয়াপাড়া, পশ্চিম কুতুবদিয়াপাড়াসহ ১৭টি মহল্লায় অন্তত ৪ হাজার ঘরবাড়ি জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে অন্তত ২ হাজার ৩০০টি ঘরবাড়ি।

কুতুবদিয়াপাড়ার একটি ঝুপরিঘরে বসতি করছেন গৃহবধূ ছেনুয়ারা বেগম। সঙ্গে মা ও চার ছেলেমেয়ে। লোনাজলে ঘরের আঙিনা ডুবে আছে। ছেনুয়ারা বেগম (৩৬) বললেন, ‘সকালের জোয়ারে ঘরটি আরও ডুবে গিয়েছিল। এখন পানি সাগরে নেমে গেছে, তাই পানিও নেই। রাতের জোয়ারে আবার জলোচ্ছ্বাস হবে। তখন কী করব, ভেবে পাচ্ছি না।’ ছেনুয়ারা শুঁটকিমহালে শ্রমিকের কাজ করে দিনে ৩০০ টাকা আয় করেন। সেই টাকায় চলে সংসার। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তিন দিন ধরে শুঁটকি উৎপাদনও বন্ধ।

বেলা ১১টায় জলোচ্ছ্বাস হানা দেওয়া কুতুবদিয়াপাড়া পরিদর্শনে যান পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান। এ সময় লোকজন টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানাতে থাকেন। মেয়র প্রথম আলোকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর এমনিতে উত্তাল, তার ওপর যোগ হয়েছে ভরা পূর্ণিমার প্রভাব। সব মিলিয়ে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ছয়-সাত ফুট উচ্চতায় বেড়ে উপকূলে আঘাত হানছে। এখন পৌরসভার এই ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ২ হাজার ৩০০ ঘরবাড়ি কোমরসমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুঁটকি উৎপাদনের অন্তত ২০০টি মহাল পানির নিচে ডুবে আছে। অনেক টাকার শুঁটকি নষ্ট হচ্ছে। পল্লিগুলোর বাইরে সমুদ্রসৈকত। প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ নেই। ফলে জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো কঠিন।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকতার কামাল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর এই ওয়ার্ডে ১৭টি মহল্লায় অন্তত ৮ হাজার ঘরবাড়িতে থাকেন ৫০ হাজারের বেশি শ্রমজীবী মানুষ। নাজিরারটেক উপকূলে স্থাপিত হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ শুঁটকি উৎপাদনের ৭০০ মহাল। মহালে শ্রমিকের কাজ করেন অন্তত ৩৪ হাজার শ্রমজীবী নারী-পুরুষ। জলোচ্ছ্বাসে এসব শ্রমজীবী মানুষগুলো দিশেহারা। বৈরী পরিবেশে মহালগুলোতে শুঁটকি উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭ গ্রামের ১৩০টির বেশি ঘরবাড়ি। পানিতে ডুবে থাকা হাজারো ঘরবাড়ির অন্তত ছয় হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। শহর থেকে নাজিরারটেক যাতায়াতের তিন কিলোমিটারের পাকা সড়কটিও পানিতে ডুবে আছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে।

পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, নাজিরারটেক, নুনিয়াছটা উপকূলের অন্তত ৭০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এ জন্য শহরের ২০-২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হোটেল খোলা রাখা হয়েছে। আশ্রিতদের খাবারের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন