বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, নিদন পেশায় কৃষক ছিলেন। বিভিন্ন সময় টমটম গাড়ি চালাতেন। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার ছিল। হৃদয় ছেলেমেয়ের মধ্যে সবার বড়, বিয়ে করেননি। বেকার জীবন যাপন করেন। এক বছর আগে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। কয়েক মাস আগে থেকে পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের দূরত্ব বাড়ে। সম্প্রতি বাবার কাছে ঘন ঘন টাকাপয়সা চাইতেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হলেই বাবার প্রতি চড়াও হতেন, ভাঙচুর করতেন। এসব কারণে হৃদয়কে বাড়ি আসতে না করে দেন নিদন। হৃদয়ের খাওয়াও বন্ধ করে দেন তিনি।

পুলিশ হেফাজতে হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার টাকার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু আব্বা দিচ্ছিলেন না। আবার বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেছেন। এ কারণেই রাগ হয়, রাগ থেকেই আব্বাকে কুপিয়েছি।’

গত মঙ্গলবার বাবা–ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তখন নিদনের স্ত্রী ছেলের পক্ষ নেন। কেন ছেলেকে প্রশ্রয় দেন, এ ক্ষোভে স্ত্রীকে মারধর করে নিদন। ছেলেকেও ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন তিনি। এ ঘটনায় হৃদয় ক্ষুব্ধ হন এবং নিদনকে হত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়ে যান। ছেলের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার পর নিদন গোপনে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাত্রি যাপন করে আসছিলেন। গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার সময় স্কুলের কাছের সড়কে নিদনের পথ আগলে দাঁড়ান হৃদয়। এরপর দা দিয়ে কোপাতে থাকেন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই নিদনকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। ভোরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই নিদনের মৃত্যু হয়।

জনতার হাতে আটকের পর হত্যার কথা স্বীকার করেন হৃদয়। পুলিশ হেফাজতে হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার টাকার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু আব্বা দিচ্ছিলেন না। আবার বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেছেন। এ কারণেই রাগ হয়, রাগ থেকেই আব্বাকে কুপিয়েছি। অনুশোচনা হচ্ছে কি না, এ প্রশ্নে হৃদয় নীরব ছিলেন।’

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম শাহাদত হোসেন বলেন, ‘নিদনকে দা দিয়ে কুপিয়েছেন তাঁর ছেলে হৃদয়। শুনেছি হৃদয় মাদকাসক্ত ছিলেন। টাকাপয়সা নিয়ে সমস্যাটা বড় হয়। সেই কারণেই বাবার ওপর চড়াও হন হৃদয়। পুলিশের কাছে বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন হৃদয়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন