default-image

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ১০ প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগেরই ছয়জন ‘বিদ্রোহী’। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় পাঁচজনকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেও বিদ্রোহ দমাতে পারছে না আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই মাঠ গরম করে রেখেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এতে দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভক্তি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গত ১৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। রানীশংকৈল পৌরসভায় দলের মনোনয়ন পান মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু মনোনয়ন বোর্ডের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীসহ মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকেই। সেই অসন্তোষ থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান পৌর মেয়র আলমগীর সরকার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নওরোজ কাউসার, পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য আ ফ ম রুকুনুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিউল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য সাধন কুমার বসাক, উপজেলা যুবলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুল খালেক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ইসতেখার আলী।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় ২৭ জানুয়ারি আলমগীর সরকার, রফিউল ইসলাম, সাধন কুমার বসাক, ইসতেখার আলী ও আ ফ ম রুকুনুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগ। পরে ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা যুবলীগ নেতা আবদুল খালেককেও দল থেকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কারের পর ইসতেখার আলী আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ালেও অন্যরা নির্বাচনী মাঠে থেকে যান।

বিজ্ঞাপন

৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডরা এলাকার বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ কর্মী আবুল হাশেম বলেন, ‘দলের সাতজন প্রার্থী ভোটের মাঠে আছেন। এতে আমাদের অবস্থা আপনাকে বোঝাতে পারছি না। দলের কর্মীরা সাতটি ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। নৌকার ভোটও ভাগ হয়ে যাবে। এতে কী ফল হতে পারে, তা বোঝাই যায়।’

৭ নম্বর ওয়ার্ডের আরেক আওয়ামী লীগ কর্মী সুলতান আলী বলেন, ‘আর কোনো পৌরসভায় একটি দলের ছয়জন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন করেছেন কি না, আমার জানা নেই। এটা একটা রেকর্ড।’

রানীশংকৈল পৌরসভার বর্তমান মেয়র আলমগীর সরকার দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছর পৌরসভার মেয়র থাকাকালে আমি পরিবারে যতটা সময় দিইনি, তার চেয়ে জনগণকে সময় দিয়েছি। পৌরবাসীর পাশে ছিলাম। করোনার সময় সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। তাই জনগণের দাবির মুখে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি।’

নির্বাচনের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নওরোজ কাউসার। তাঁর বিরুদ্ধে দল এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি বলেন, দুঃসময়ে যাঁরা আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন, তাঁদের মূল্যায়ন করা হয়নি। যাঁকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, পৌরসভায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নেই। এই পরিস্থিতিতে পৌর মেয়রের চেয়ার বিএনপি-জামায়াতের হাতে চলে যেতে পারে। সেটা রক্ষার জন্যই তিনি নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন বলে জানান। দল থেকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি তাঁকে সাফ জানিয়ে দিয়েছি, পৌরবাসীর ভালোবাসায় আমি প্রার্থী হয়েছি। দলের পদ হারালে ক্ষতি নেই। কিন্তু পৌরবাসীর ভালোবাসা হারাতে পারব না।’

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আ ফ ম রুকুনুল ইসলাম বলেন, তাঁর অনুসারীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ না নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা করছেন তিনি। একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের আরেক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আবদুল খালেক।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। সংকট সৃষ্টি হলেও নৌকার জয়ে বিদ্রোহীরা প্রভাব ফেলতে পারবে না।’ উন্নয়নের স্বার্থে পৌরবাসী নৌকার পক্ষেই ভোট দেবেন বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সইদুল হক বলেন, রানীশংকৈল পৌর নির্বাচনে দলের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা এখন আওয়ামী লীগের কেউ নন, তাঁরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী। রানীশংকৈলে নৌকাপ্রীতি রয়েছে। শেষ পর্যন্ত নৌকারই জয় হবে।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও ছয় বিদ্রোহী ছাড়াও বিএনপি মনোনীত মাহমুদুন নবী, জাতীয় পার্টির মো. আলমগীর, জামায়াত–সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকাররম হোসাইন নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন