পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইকবাল হোসেন উপজেলার সেবারহাট বাজারে একটি দোকানের কর্মচারী। সকালে তিনি কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর স্ত্রী গোলাপী বেগম রান্না শেষ করে চুলার পাশে শুকানোর জন্য কিছু পাতা রেখে পাশের পুকুরে সন্তানদের কাপড় ধোয়ার পাশাপাশি গোসল করতে যান। যাওয়ার সময় রান্নাঘর–সংলগ্ন দোচালা বসতঘরে দুই শিশুসন্তানকে ঘুমন্ত রেখে যান।

এর মধ্যে রান্নাঘরের চুলার পাশে রাখা পাতা শুকিয়ে তাতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন রান্নাঘর থেকে সংলগ্ন বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দেখে বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও পুকুরঘাট থেকে গোলাপী বেগম এগিয়ে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে ঘরের চৌকিতে ঘুমন্ত দুই শিশু আগুনে পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশু দুটির বাবা ইকবাল হোসেন বলেন, পাতা থেকে আগুন ধরে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে বসতঘর পুড়ে গেছে। এতে তাঁর দুই অবুঝ সন্তান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ঘটনাটিকে মর্মান্তিক উল্লেখ করে বীজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন ওরফে কাজল বলেন, আগুনে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারটি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। বিশেষ করে একসঙ্গে দুই সন্তান হারিয়ে তাঁরা চরমভাবে ভেঙে পড়েছেন।

সেনবাগ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ফাইটার শাহদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বীজবাগ ইউনিয়নের বীর নারায়ণপুর গ্রামে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে কেউ তাঁদের জানায়নি। ঘটনার অনেক পরে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে তাঁরা ঘটনাটি শুনেছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন