default-image

চুয়াডাঙ্গায় বিয়ের অনুষ্ঠানে রান্নার কথা বলে ডেকে এনে দুই বোনকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে গত সোমবার এ ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের শিকার ওই দুই বোনকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার এক বোনের স্বামী বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার দর্শনা থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ ওই মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন ওরফে সুমনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে। আনোয়ার হোসেনের বাড়ি উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন একই গ্রামের মিলন (৩৫) ও সাগর (৪০), নেহালপুর গ্রামের আরিফুল ইসলাম (২৫) ও অজ্ঞাতনামা এক যুবক।

বিজ্ঞাপন

দুই বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের কোনো অনুষ্ঠান না থাকলেও পূর্বপরিকল্পিতভাবে আনোয়ার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা বাবুর্চির সহকারী হিসেবে রান্নার কাজের জন্য ওই দুই বোনের সঙ্গে কথা বলেন। আনোয়ার হোসেনের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী তাঁরা সোমবার এলাকার হিজলগাড়ি বাজারে এসে নামেন। এরপর একটি ইজিবাইকে করে তাঁদের বোয়ালিয়া গ্রামের মিলনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পাঁচজন মিলে তাঁদের পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেন এবং গতকাল ভোরে ছেড়ে দেন। ওই বাড়িতে এ সময় আর কেউ ছিলেন না।

বিজ্ঞাপন

ওই দুই বোন গতকাল দুপুরে দর্শনা থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। ওই নারীদের ভাষ্য, দর্শনা থানার পুলিশের একটি দল অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের ধরতে বোয়ালিয়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে আনোয়ার হোসেনকে তাঁর শ্বশুরবাড়ি নেহালপুর গ্রাম থেকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। সেখানে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই দুই বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে সহযোগীদের নাম-পরিচয় জানিয়ে দেন। এরপর খবর পেয়ে ধর্ষণের শিকার একজন নারীর স্বামী বাদী হয়ে দর্শনা থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে দর্শনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান জানান, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দুই বোনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মন্তব্য পড়ুন 0