বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, আখাউড়া, সরাইল, নাসিরনগর ও বিজয়নগর উপজেলার ৪০টি ইউনিয়ন প্লাবিত। জেলার প্রায় সাত হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী। পরিবারগুলোর সদস্যরা খাবার, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন।

বেলা সোয়া একটার দিকে জেলা শহরের শিমলাইলকান্দি মসজিদ ঘাট থেকে ছোট নৌকায় করে প্রায় ৪০ মিনিটের পথ অতিক্রম করে বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের পত্তন গ্রাম ঘুরে পানিবন্দী মানুষ চোখে পড়ে। রাস্তার পাশে পানিতে তলিয়ে যাওয়া কয়েকটি বাড়ি দেখা গেল। ঊরুসমান পানি মাড়িয়ে একটি বাড়ির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ইট দিয়ে উঁচু করা একটি জায়গায় মাটির চুলায় মিনারা বেগম রান্না করছেন। তিনি ইটের ওপর বাঁশের চালি ফেলে সেখানে বসে ভাত রান্না করছিলেন।

default-image

ভাত রান্নার সময় মিনারা বেগমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ৪–৫ দিন ধরেই পানির মধ্যে আছেন। দু-তিন দিন ধরে এভাবে রান্না করছেন। বাড়ির ছোট শিশুরা শুকনো খাবার খেয়ে থাকতে পারে না, তাই বাধ্য হয়ে এভাবে রান্না করতে হচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে মিনারা বলেন, এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যানের চেহারা এখনো দেখেননি। কেউ কোনো সহায়তা করেননি।

প্রায় ডুবন্ত একটি নলকূপের মুখের নিচে কলস পেতে পানি নিচ্ছিলেন প্রতিবেশী হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেন, পানি বিশুদ্ধ কি না, জানেন না। এখান থেকে পানি নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। পানি ভালো না হলেও এটাই খেতে হবে। এই পানিতেই রান্নাসহ সব কাজ করছেন।

পাশের কল্যাণপুর গ্রামের জায়েদা বেগম, মালু মিয়া, আতিকুল ইসলাম, আবজু মিয়া, দানা মিয়া ও সাজির হোসেনের বসতঘরে কোমরসমান পানি। তাঁরা অন্যত্র ঠাঁই নিয়েছেন।

বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ বলেন, উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রায় ১ হাজার ৬৯২টি পরিবারের ৮ হাজার ৪৫০ মানুষ পানিবন্দী। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন