রাবিতে ট্রাকচাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চালক ও তাঁর সহকারী আটক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাকচাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চালক ও চালকের সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের হড়গ্রাম এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ দুজনকে আটক করে।
আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার আরেফিন জুয়েল।
আটক দুজন হলেন কাশিয়াডাঙ্গার বাসিন্দা টিটু (৪২) এবং নবগঙ্গা এলাকার হামিম হোসেন কালু (২০)। তাঁদের মধ্যে টিটু ট্রাকচালক আর হামিম চালকের সহকারী।
আরেফিন জুয়েল বলেন, ঘটনার পর থেকেই এ দুজন পলাতক। গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে তাঁদের আটকের জন্য অভিযান চালায় পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের হড়গ্রাম এলাকা থেকে আটক করা হয়। তাঁরা সেখানে এক মামার বাড়িতে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নগরের মতিহার থানায় মামলা হবে। তাঁদের এখন ডিবি কার্যালয় হেফাজতে রাখা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে ট্রাকচাপায় মারা যান শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিকস ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি বগুড়ায়। তবে অসুস্থ মাকে নিয়ে থাকতেন নাটোরে। এই দুর্ঘটনায় আহত চারুকলার মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রায়হান প্রামাণিক রিমেল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি শঙ্কামুক্ত হলেও তাঁর একটি পা গুরুতর জখম হয়েছে।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা নির্মাণসামগ্রী বহনকারী পাঁচটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেন। রাত সাড়ে নয়টা থেকে একটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে ট্রায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের আরেকটি দল উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে ছয় দফা দাবির আশ্বাসে তাঁরা দিবাগত রাত দুইটায় উপাচার্যের বাসভবন ত্যাগ করেন। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলীকে মৌখিকভাবে প্রত্যাহার করেছে প্রশাসন।
আজ বেলা পৌনে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে হাবিবের জানাজা হয়। এরপর বেলা ১১টার দিকে তাঁর লাশ নিয়ে নাটোরের উদ্দেশে রওনা হন তাঁর মা ও মামা। সঙ্গে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।