default-image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি করেছেন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’। আজ রোববার বেলা একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের সামনে আম চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরের মাটি ‘চুরি’ বন্ধ করতে না পারা ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ৫০ বিঘা জমি ইজারা দিয়ে ৩টি পুকুর খনন প্রকল্পের কাজ চলছে। শর্ত ভেঙে ২৭ মার্চ থেকে পুকুরের মাটি ট্রাকে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিভিন্ন ইটভাটা, ব্যক্তিগত পুকুর ও কবরস্থান ভরাটসহ বিভিন্ন কাজে প্রতি ট্রাক মাটি পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ চুরি/লুট হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, গত ২৬ এপ্রিল রাতের আঁধারে মাটি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় মাটি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ মৃত্যুর দায় কৃষি প্রকল্পের উপদেষ্টা কমিটি, ইজারাদানকারী কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়িয়ে যেতে পারে না। তিনি আরও বলেন, ‘পুকুর কাটা ও মাটি বিক্রির বিষয়টিকে উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের নেতৃত্বে চলমান দুর্নীতির অংশ বলেই মনে করি। এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা উপাচার্য, দুই সহ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরের অপসারণের জোর দাবি করছি।’

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল মামুন, অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পান্ডে, অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, অধ্যাপক সৈয়দ মুহাম্মদ আলী রেজা, অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্যাহ, অধ্যাপক আসাবুল হক, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, অধ্যাপক তারিকুল হাসান প্রমুখ।

শিক্ষকেরা ৬ মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কাজ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, এ সময়ের মধ্যে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শিক্ষকেরা তা প্রতিহত করবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন