বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তৃতা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মশিউর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, কথাসাহিত্যিকের সন্তান ইমতিয়াজ হাসান প্রমুখ। সেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী প্রভৃতি সংগঠন ও নানা স্তরের ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা জানান। একপর্যায়ে প্রিয় কথাসাহিত্যিককে শ্রদ্ধা জানাতে সাধারণ মানুষের ঢল নামে।

জানাজার জন্য বাদ জোহর তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। জানাজা শেষে বেলা সোয়া দুইটার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে নেওয়া হয় তাঁর মরদেহ। গ্রন্থাগার চত্বরের এক পাশে সমাহিত আছে শহীদ বুদ্ধিজীবী শিক্ষক সুখরঞ্জন সমাদ্দার। আরেক পাশে সমাহিত করা হয় কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হককে।

default-image

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নাট্যজন অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, ‘আমাদের জন্য আজ অবর্ণনীয় শোকের দিন। কেননা, আমাদের দেশে অনেক গুণী সাহিত্যিক আছেন। কিন্তু হাসান আজিজুল হকের একটি বিরল গুণ, তিনি তাঁর সৃজনকর্মকে নিজের কাজের অধীনে রাখতে পেরেছিলেন। অর্থাৎ, তিনি যা লিখতেন, তাতে বিশ্বাস করতেন এবং মাঠে এসে মানুষের সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে মিশে এ দেশের সব প্রগতি আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমাদের পথ দেখিয়েছেন।’

মলয় ভৌমিক আরও বলেন, তিনি নামকরা একজন নাট্যনির্দেশক, মঞ্চের একজন দাপুটে অভিনেতা ছিলেন। সাহিত্যের ক্ষেত্রে তাঁর নিজের নাট্য রূপান্তর করাও আছে। একজন সমৃদ্ধ সাহিত্যিক, সংগ্রামী মানুষ, প্রকৃত নাগরিক ও সর্বগুণের অধিকারী ছিলেন। এ জন্য কেবল শোকসভা, আনুষ্ঠানিকতা করলে তাঁর প্রতি দায় মোচন হয় না। তাঁকে আজকে অনুসরণ করা দরকার। তাঁর এই বিরল গুণ সাধারণের মধ্যে নিয়ে যেতে হবে।

হাসান আজিজুল হককে দেবতুল্য মানুষের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রতিবেশী অধ্যাপক মহেন্দ্রনাথ অধিকারী। তিনি বলেন, সেই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময় শ্রীকৃষ্ণ যেমন অর্জুনকে দার্শনিক ও তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়ে চাঙা করেছিলেন। ঠিক তেমনি হাসান আজিজুল হকও হতাশাগ্রস্ত, নিরুপায়, পথ খুঁজে না পাওয়া মানুষগুলো তাঁর কাছে ছুটে গেলে তিনি ঠিকই তাদের পথ খুঁজে দিতেন।

করোনাকালে সতর্কতার জন্য তাঁর সঙ্গে সবাইকে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হতো না। এ সময়ে তিনি অনেকটা আড়ালেই ছিলেন। গত ২১ আগস্ট হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসান আজিজুল হককে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। ৯ সেপ্টেম্বর তিনি আবার নিজ বাসায় ফিরে আসেন।

গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে বাংলা সাহিত্যের এই প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাজশাহীর নিজ বাসভবনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বার্ধক্যের কারণে তিনি মারা গেছেন।

হাসান আজিজুল হক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি লেখালেখি করেছেন। তিনি একাধারে গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ লিখেছেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এই কথাসাহিত্যিকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন