বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জামিল হাসান বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমাকে বাড়ির গেটে নামিয়ে দিয়ে ফিরোজ ঢালীসহ চারজন দুটি মোটরসাইকেলযোগে কাদিরখোলা এলাকায় ফিরোজের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পরে বেলাল ব্যাপারী, বেলালের ভাই বাকী ডাকরাসহ ৩০-৪০ জন ফিরোজদের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করেন। অতর্কিত মারপিট শুরু করেন। অতর্কিত মারপিটে তাঁদের জ্ঞান হারালে হামলাকারীরা রাস্তার ওপর ফেলে দিয়ে চলে যান। পরে আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ফিরোজ ও হানিফকে পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে ফিরোজ মারা যান।’

পুলিশ জানায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত ফিরোজের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিদের মধ্যে হানিফকে হাত ও পা ভাঙা অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

হতাহত সবাই রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রামপাল সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জামিল হাসানের অনুসারী। অভিযুক্ত বেলাল ব্যাপারী রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ও রামপাল সদর ইউপির চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদারের ঘনিষ্ঠ বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত বেলাল ব্যাপারী আওয়ামী লীগের কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত। তবে তাঁর দলীয় পদ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তিনি রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ও রামপাল সদর ইউপির চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদারের ঘনিষ্ঠ বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

বেলাল ব্যাপারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যাওয়ার অপরাধে জামিলের লোকেরা আমাদের ওপর হামলা করেন। সেই জেরে আমার লোকেরা আজ ফিরোজকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁদের মধ্যে মারামারি হয়। তবে আমার লোকেরা কাউকে হামলা করেননি। সেখানে কেউ মারা গেছেন কি না, আমার জানা নেই।’

রামপাল সদর ইউপির চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার আগে জামিল হাসানের লোকেরা বেলাল ব্যাপারীর লোকদের ওপর হামলা করেছিলেন বলে শুনেছি।’

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুদ্দিন বলেন, স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আবার সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ শুরু করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন