রামুতে অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়া তরুণী চট্টগ্রামে, একজন গ্রেপ্তার

অ্যাসিড হামলা
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের রামুতে অ্যাসিড নিক্ষেপের শিকার তরুণী তৈয়ূবা বেগমকে আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। গত সোমবার গভীর রাতে তাঁকে অ্যাসিড ছুড়ে মারা হয়। অ্যাসিডে তরুণীর ডান চোখ ও মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তরুণীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

এদিকে পুলিশ মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ঘটনার অন্যতম হোতা নুরুল আবছার ওরফে ভুট্টুকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি মাঝিরকাটা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার নুরুল আবছার ও তাঁর ভাই ফরিদ আলমকে আসামি করে অ্যাসিড অপরাধ দমন আইনে মামলা করেন তরুণীর বাবা মোজাফফর আহমদ। মামলার অন্য আসামি ফরিদ আলমকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ঘটনার অন্যতম হোতা নুরুল আবছার ওরফে ভুট্টুকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফরহাদ আলী বলেন, আজ দুপুরে নুরুল আবছারকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শাহীন মো. আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, অ্যাসিডে তরুণীর চোখ ও মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তরুণীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। বেলা দুইটার দিকে তরুণী সদর হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে মাকে সঙ্গে নিয়ে ঘরের বাইরে শৌচাগারে যান তৈয়ূরা বেগম। এ সময় প্রতিবেশী নুরুল আবসার ও ফরিদ আলম তৈয়ুবার মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারেন। তৈয়ূরার আর্তচিৎকারে স্থানীয় ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে দুজন পালিয়ে যান। আগামী শুক্রবার একই ইউনিয়নের শাহ মোহাম্মদপাড়ার নুরুল আজিমের সঙ্গে তৈয়ূবার বিয়ের দিন ধার্য ছিল।

তরুণীর বাবা মোজাফফর আহমদ বলেন, বিয়ের তিন দিন আগে পরিকল্পিতভাবে অ্যাসিড ছুড়ে মেরে তাঁর মেয়ের জীবনটা শেষ করে দিয়েছেন অভিযুক্তরা।