বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর জেলার প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ওই হাসপাতালে নানা ধরনের সংকট রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে রি-এজেন্ট বা রাসায়নিক সংকট থাকায় সিরাম ইলেকট্রোলাইট, ট্রপোনিন, টিএসবি, টি-৩, টি-৪, এফএসএইচ, এলএইচসহ গুরুত্বপূর্ণ আটটি পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানলেও এখনো ওই সংকট দূর হচ্ছে না।

রোগীরা বলছেন, এসব পরীক্ষা কম খরচে হাসপাতালে করা যেত। এখন করতে না পারায় তাঁদের যেমন ভোগান্তি হচ্ছে, তেমনি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। হাসপাতালে ট্রপোনিন পরীক্ষার জন্য ৩০০ টাকা এবং ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা লাগত। বাইরে ট্রপোনিন পরীক্ষার জন্য ১ হাজার ৩০০ টাকা ও ইলেকক্ট্রোলাইট পরীক্ষার জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা রাখা হচ্ছে।

সম্প্রতি হৃদ্‌রোগ, কিডনি ও ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত মহানগরের ভোগড়া এলাকার বছিরন নেছা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসকের পরামর্শে ইলেক্ট্রোলাইটসহ কয়েকটি পরীক্ষা করতে হয়। বছিরন নেছা বলেন, আগে এসব পরীক্ষা অল্প খরচে হাসপাতালে করা গেলেও বর্তমানে এখানে এসব পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে প্রায় কয়েক গুণ বেশি খরচে বাইরে থেকে করতে হয়েছে।

সদ্য নিয়োগ পাওয়া শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক তপন কান্তি সরকার সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, মেডিকেল কলেজ প্রকল্পের তৎকালীন পরিচালকের মাধ্যমে হাসপাতাল ল্যাবে এসব পরীক্ষার যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও রি-এজেন্ট (রাসায়নিক) সরবরাহ করা হয়। এ সময় চুক্তি অনুযায়ী ল্যাবে তিন বছর পর্যন্ত এসব পরীক্ষার রি-এজেন্ট সরবরাহের কথা থাকলেও প্রায় তিন মাস পর গত জুনের শেষ থেকে তারা রি-এজেন্ট সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে রি-এজেন্ট সংকট দেখা দিলে কয়েক মাস ধরে হাসপাতালের ল্যাবে কয়েকটি পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নিজস্বভাবে এসব কেনার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক আসাদ হোসেন অবৈধভাবে মেডিকেলের নামে কেনা ওই সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট নিজস্ব উদ্যোগে হাসপাতালে সরবরাহ করেন। এর অডিট (নিরীক্ষা) আপত্তির পর তদন্তও হচ্ছে। তবে হাসপাতাল পরিচালক উদ্যোগ নিলে ওই সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট কেনা অসম্ভব নয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন