default-image

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের ওভারব্রিজে দিনদুপুরে এক কলেজপড়ুয়া ছাত্রীকে মারধর করেছেন এক যুবক। আজ বুধবার বলে দুইটার দিকে শতাধিক মানুষের সামনে ওই ছাত্রীকে মারধর করা হয়। রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে থাকা ওই যুবকের কাছে যাওয়ার জন্য ‘সাইড’ চাওয়ায় এই মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাত্রীকে মারধর করা ওই যুবকের নাম বিজয় হাসান (২৫)। তিনি নরসিংদী শহরের কাউরিয়া পাড়া এলাকার মো. স্বপন মিয়ার ছেলে। পুলিশের ভাষ্যমতে, হাসান শহরের কাউরিয়া পাড়া এলাকার একজন বখাটে হিসেবে পরিচিত।

ওই ছাত্রী ও তাঁর দুই বান্ধবী বলেন, তাঁরা নরসিংদী সরকারি কলেজে পড়েন। বুধবার দুপুরে কলেজের কাছেই প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। রেলওয়ে ওভারব্রিজটি পার হয়ে নামার পথে কয়েকজন বন্ধুসহ বিজয় হাসান দুহাত উঠিয়ে পথ আগলে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁরা যাওয়ার জন্য সাইড চাইলে ওই যুবক বলেন, ‘কাকে সাইড দিব? চলে যান, আপনাদের আটকে রেখেছে কে?’ এর পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী ছাত্রী যুবকের কাছে জানতে চান, ‘এভাবে কথা বলছেন কেন?’ সঙ্গে সঙ্গেই ওই যুবক ছাত্রীর ওড়না টেনে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়ে বলেন, ‘তুই কে? আমি এখানে দাঁড়াব, সাইড দিব না, তুই কী করবি কর।’ এ সময় উপস্থিত লোকজন ওই যুবকের কাছে অনুরোধ করেন মেয়েগুলোকে সাইড দেওয়ার জন্য।

এতে উত্তেজিত হয়ে ওই যুবক ওভারব্রিজের রেলিংয়ে ছাত্রীর মাথা জোরপূর্বক চেপে ধরেন। পরে ছাত্রীর গালে উপর্যুপরি চড় দিতে থাকে। এ সময় ছাত্রীও ওই যুবকের গালে দুটি চড় বসিয়ে দেন এবং বলতে থাকেন, ‘আমাকে মেয়ে মানুষ পেয়ে এভাবে মারবি?’ উপস্থিত লোকজনের মধ্যে কেউ এ সময় এগিয়ে আসেনি। তবে যুবকের সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাঁকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।

বিজ্ঞাপন

তাঁরা আরও জানান, কোনো কারণ ছাড়াই এ কাজ করেছেন ওই যুবক। পাশাপাশি এসব দৃশ্যের ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। এই ওভারব্রিজ দিয়ে আর কখনো গেলে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মেয়েটিকে ওভারব্রিজের ওপর এভাবে মারধর করতে দেখে সবাই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। মেয়েটিকে কমপক্ষে ২০–২৫টি চড় মারেন ওই যুবক। পরে তাঁদের আটকে রেখে পরিবারের সদস্য ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পরপরই তাঁরা ওভারব্রিজ থেকে নিচে নেমে এলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের ঘিরে ধরেন। উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যদের এই খবর জানানো হয়। খবর পেয়ে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ সেখানে এসে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। দুই পরিবারের সদস্যরাও একে একে উপস্থিত হন সেখানে। একপর্যায়ে উপস্থিত হন নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী।
ওসি বিপ্লব কুমার দত্ত বলেন, উভয় পক্ষের বক্তব্য তাঁরা শুনেছেন। ঘটনাস্থল রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন হওয়ায় ওই ফাঁড়িকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. ইমায়েদুল বলেন, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলার পরও ছাত্রীর পরিবার কোনো রকম অভিযোগ করতে রাজি হয়নি। পরে ওই ছাত্রীর কাছে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান বিজয় হাসান। পরে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন