বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধারণা করছেন, আজ সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সিলেট মেইল ট্রেনটি দৌলতকান্দি স্টেশন অতিক্রম করার আগে সূর্যের মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় আট ঘণ্টা লাশটি রেললাইনের পাশে পড়ে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বিকেলে লাশটি দেখে দৌলতকান্দি স্টেশনের মাস্টারকে খবর দেন। পরে ভৈরব রেলওয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত নারীর লাশ উদ্ধার করে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর লাশ ভৈরব রেলওয়ে থানায় নেওয়া হয়। খবর পেয়ে নিহত ব্যক্তির স্বামীর পরিবারের লোকজন ওই থানায় গিয়ে পরিচয় শনাক্ত করেন।

ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত আমেনা কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঢাকি ইউনিয়নের আটপাশা গ্রামের আবদুল করিম মিয়ার মেয়ে। তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে রায়পুরার দৌলতকান্দি গ্রামের কাশেম মিস্ত্রির ছেলে তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাঁর কলহ লেগেই থাকত।

গৃহবধূর বাবা আবদুল করিম মিয়া বলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই যৌতুকের জন্য মেয়েকে চাপ দিয়ে নানাভাবে নির্যাতন করতেন। তিন দিন আগে মেয়ের সঙ্গে তাঁর যখন কথা হয়, তখনো সে এসব অশান্তির কথা তাঁকে জানায়। তাঁকে যাঁরা মরতে প্ররোচনা দিয়েছেন, তাঁদের বিচার চান তিনি।

এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ভৈরব রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. আবদুল হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যায় নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ভৈরব রেলওয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হবে। নিহত গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন