বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার দিকে রায়পুরার পাড়াতলীর কাচারিকান্দি গ্রামে সংঘর্ষের সময় দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাঁরা হলেন রায়পুরার পাড়াতলীর কাচারিকান্দি গ্রামের মলফত আলীর ছেলে সাদির মিয়া (১৯) ও আসাদ মিয়ার ছেলে হিরণ মিয়া (৩৫)। ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাড়াতলী আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় টেঁটাবিদ্ধ ও গুলিবিদ্ধ হয়ে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীসহ অন্তত ৩০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাড়াতলীর কাচারিকান্দি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পাড়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহ আলমের সঙ্গে সাবেক সদস্য ফজলুল হকের ছেলে শাহ আলমের বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জেরে প্রায়ই দুই পক্ষের সমর্থকেরা টেঁটা, বল্লম ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় পাড়াতলী ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই দুই পক্ষ দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর হয়ে মাঠে আছে। ইউপি সদস্য শাহ আলম আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদুর রহমানের সমর্থক। অন্যদিকে ফজলুল হকের ছেলে শাহ আলম আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফেরদৌস কামালের সমর্থক।

সংঘর্ষে নিহত সাদির মিয়ার বড় বোন কমলা বেগম বলেন, ‘মাসু চেয়ারম্যান (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদুর রহমান) ও শাহ আলম মেম্বার (ইউপি সদস্য) বলার পরই গুলি চালানো হয়। উজ্জ্বল, আক্তার, আবদুল ও সাহেব আলীরা গুলি করতে থাকে। আমার চোখের সামনে আমার ছোট ভাই সাদির গুলি খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ওই সময়ই সে মারা যায়। অল্প কয়েক দিন পরই তাঁর বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল। এ ঘটনায় আমরা আজই মামলা করতে রায়পুরা থানায় যাব।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজ শুক্রবারও ইউপি সদস্য শাহ আলম ও সাবেক ইউপি সদস্য ফজলুল হকের ছেলে শাহ আলমের মুঠোফোনে কল করেন এই প্রতিবেদক। তবে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মাসুদুর রহমান জানান, ‘যেহেতু নির্বাচনের মাঠে আছি, সেহেতু শুধু ইউপি সদস্য শাহ আলম কেন, এই এলাকার সবাই আমার কর্মী। তবে এই হামলা ও সংঘর্ষের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। শুধু শুনেছি গোলাগুলি হয়েছে, অনেকে আহত হয়েছেন, দুজন মারা গেছেন। কারা এর সঙ্গে জড়িত, সেটা জানি না।’

পাড়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে কাচারিকান্দি গ্রামে বড়বাড়ি ও ফকিরবাড়ি নামের দুটি বংশগত দল ছিল। তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত। কিন্তু ওই দুই বংশের মধ্যে এখন আর কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে না। কিন্তু দুই বছর ধরে নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর মধ্যে। তাঁদের দ্বন্দ্বে পাঁচ মাসের মধ্যে পাঁচটি মৃত্যু দেখল ওই গ্রামের মানুষ।’

জানতে চাইলে রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ জানান, ইউপি নির্বাচন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুজন নিহতের ঘটনায় দ্রুত মামলার প্রস্তুতি চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে। নিহত দুজনের লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে  ময়নাতদন্ত শেষে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা বলছেন, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে পাড়াতলীর কাচারিকান্দিতে এ সংঘর্ষের ঘটনা নতুন কিছু নয়। দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের এই বিরোধ দুই বছর ধরে চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন