বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামিন আবেদনে রায়হান হত্যায় আশেক তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ পালন করেছেন এবং হত্যায় সরাসরি জড়িত নন উল্লেখ করে জামিন প্রার্থনা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।
এ ব্যাপারে মহানগর দায়রা জজ আদালতে ভারপ্রাপ্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সৈয়দ শামীম আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, রায়হানকে ছিনতাইকারী সাজিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন আশেক এলাহী। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামির পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। তিনি অভিযোগপত্রভুক্ত দ্বিতীয় আসামি।

এ ছাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন করার সময় আশেকই রায়হানের নখ উপড়ে ফেলেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে এই অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে এবং অভিযোগপত্রেও উল্লেখ রয়েছে। দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযুক্ত কোনো আসামিকে জামিন দেওয়া হলে বিচার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এসব যুক্তি উপস্থাপন করায় আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
একই আদালতে ২ জুন মামলার প্রধান আসামি বরখাস্ত হওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়ার জামিন আবেদন করা হলে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতায় নামঞ্জুর হয়। এরপর ১৩ জুন মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৩ নম্বর আসামি কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদের জামিন আবেদন করা হলে ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতায় জামিন নামঞ্জুর হয়। তৃতীয় পর্যায়ে গত ২৬ আগস্ট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড (টুআইসি) পদে থাকা বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিনের জামিন আবেদন করা হলে নামঞ্জুর হয়।

গত বছরের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট নগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রীর করা মামলার পর নগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়। ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর পুলিশি হেফাজত থেকে আশেক এলাহীসহ তিনজন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে প্রধান অভিযুক্ত আকবর ১৩ অক্টোবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান। ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই।

অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই (সাময়িক বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাঁড়ির টুআইসি পদে থাকা সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও এসআই আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)।

আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের চার মাস পর ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্রের পর্যালোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে অন্য আদালতে নথি থাকায় অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন‍্য ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন